গোপালগঞ্জে বাস-মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত ৫০

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী ‘কোটালীপাড়া এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাস সোনাপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

মো: সেলিম রেজা, গোপালগঞ্জ

Location :

Gopalganj
নয়া দিগন্ত

ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা হলো না এক গাড়ি চালকের। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জে বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের মধ্যে এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাস চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের যাত্রীসহ অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গোপালগঞ্জগামী ‘কোটালীপাড়া এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাস সোনাপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের ঠিক পেছনে থাকা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় বাসটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পাশের জমিতে পড়ে যায় এবং মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালক মারা যায়।

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ বলেন, ‘সংঘর্ষের ভয়াবহতায় বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। আমরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করি। মাইক্রোবাসের চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

দুর্ঘটনার পরই স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে নামেন। বাস ও মাইক্রোবাস থেকে আহত অন্তত ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের দ্রুত গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। ঈদের ছুটির কারণে গাড়ির চাপ থাকায় মুহূর্তেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, এতে ভয়াবহ ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখী মানুষ। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে বিকেল ৩টার দিকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।