ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মধুপুর চা বাগান।
রোববার (২১ জুন) সকালে চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে জাতীয় চা দিবসের উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মহসীন অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো: মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মঈনুদ্দীনসহ চা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আতাউর রহমান খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘চা আমাদের জাতীয় সম্পদ। চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়াতে হবে। চা শিল্পের উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।’
তিনি শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী চা বাগানের পুরস্কার গ্রহণ করেন বাংলাদেশীয় চা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান ও কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।
পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই অর্জন মধুপুর চা বাগানের মালিক, শ্রমিক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লায়লা কবিরের নেতৃত্বের ফল। এর আগেও মধুপুর চা বাগানে উৎপাদিত চা দেশের সেরা মানের স্বীকৃতি পেয়েছে।’
তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে মধুপুর চা বাগানের বার্ষিক উৎপাদন ছিল প্রায় ৫০ হাজার কেজি। বর্তমানে তা বেড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ কেজিতে উন্নীত হয়েছে। কেদারপুর টি কোম্পানির আওতাধীন বাগানগুলো থেকে বছরে প্রায় ১৮ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়।
ব্যারিস্টার নিহাদ কবির দেশের চা শিল্পের সুরক্ষায় চায়ের ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানিকৃত চায়ের ওপর অধিক শুল্ক আরোপের দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে আমদানি হওয়া চা দেশের উন্নতমানের চায়ের সাথে মিশিয়ে বাজারজাত করার কারণে দেশের চায়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
এ বছর জাতীয় চা পুরস্কারের অন্য বিজয়ীরা হলেন— একরপ্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান হিসেবে কমলগঞ্জের শ্রী গোবিন্দপুর চা বাগান, শ্রেষ্ঠ চা রফতানিকারক হিসেবে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হিসেবে পঞ্চগড়ের মতিয়ার রহমান, শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান হিসেবে ইস্পাহানী মির্জাপুর চা বাগান, বৈচিত্র্যময় চা পণ্য বাজারজাতকরণ ও দৃষ্টিনন্দন চা মোড়কের জন্য কাজী অ্যান্ড কাজী টি অ্যাস্টেট লিমিটেড, শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী হিসেবে চট্টগ্রামের নেপচুন চা বাগানের জেসমিন আক্তার এবং শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা হিসেবে পঞ্চগড়ের সুপ্রিম টি লিমিটেড।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।



