সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে নিখোঁজ শিশু আব্দুল্লার (৬) লাশ প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের নয়াবন্দ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের নিজস্ব উদ্যোগে আব্দুল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মৃত শিশু শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের তহিদনুর শাহ নবাবের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রাম থেকে বরযাত্রী নিয়ে নয়াবন্দ গ্রামে কনের বাড়িতে যান বরপক্ষের লোকজন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ফেরার সময় কনের বাড়ির পাশের পাড়সংলগ্ন এলাকায় নৌকাটি হঠাৎ উল্টে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় নৌকায় থাকা বর-কনেসহ অন্যান্য যাত্রীদের স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশে থাকা পর্যটকদের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শিশু আব্দুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারে ব্যাপক তল্লাশি চালান। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনদের নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর আব্দুল্লাহর লাশ উদ্ধার করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওরবেষ্টিত তাহিরপুর এলাকায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ডুবুরি দল না থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। তাদের দাবি, হাওরাঞ্চল থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব আদায় করলেও দুর্ঘটনার সময় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ও জনবল পাওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, হাওর অধ্যুষিত এ অঞ্চলে প্রায়ই নৌ-দুর্ঘটনা ও পানিতে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য স্থায়ী ডুবুরি ইউনিট, আধুনিক সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত জনবলের ব্যবস্থা নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে তাহিরপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি ইউনিট স্থাপন এবং উদ্ধার সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাহিরপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।



