হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধের দাবিতে নোয়াখালীতে ইসলামী মহাসমাবেশ

দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস

Location :

Noakhali

হেযবুত তওহীদকে ‘ঈমান বিধ্বংসী সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে নোয়াখালীতে ইসলামী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে এবং জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়া নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলা শাখার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুফতি মুঈনুদ্দিন তৈয়বপুরী ও মাওলানা মহিউদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, হেযবুত তওহীদ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করছে এবং দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি সংগঠনটিকে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Noakhali-1-8---2

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জামিয়া আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারীর মহাপরিচালক খলিল আহমদ কুরাইশী, খতমে নবুওত সংরক্ষণ কমিটির আমির আব্দুল হামিদ মধুপুরী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরার মহাপরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানী, জামেয়া ওবায়দিয়া নানুপুরের মুহতামিম সালাউদ্দিন নানুপুরী, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম (শায়খে চরমোনাই), মুফতি মোস্তাকুন্নবী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল্লাহ নওয়াব, মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান, মাওলানা নুরুল ইসলাম, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ আজাদ এবং নোয়াখালী সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ইকরাম উল্লাহ ডিপটি।

সমাবেশ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— হেযবুত তওহীদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা, সংগঠনটির প্রকাশিত বই-পুস্তক, ‘দেশের পত্র’ ও ‘দৈনিক বজ্রশক্তি’ বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বন্ধের উদ্যোগ নেয়া, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করা।

এ ছাড়া দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সেমিনার, মাহফিল ও মতবিনিময় সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সবশেষে শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শেষ হয়।