ডাকাতির নাটক সাজিয়ে শাশুড়িকে হত্যা, পুত্রবধূসহ গ্রেফতার ৩

নগদ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দ্যেশ্যেই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
নিহত আছমা আক্তার ও তিন আসামি
নিহত আছমা আক্তার ও তিন আসামি |নয়া দিগন্ত

ডাকাতির নাটক সাজিয়ে স্বর্ণ ও টাকা লুটের আড়ালে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে দুই সহযোগীসহ পুত্রবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করেছে জয়দেবপুর থানা সূত্র। সন্দেহজনকভাবে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দুই সহযোগীকে নিয়ে শাশুড়ি আছমা আক্তারকে (৫৫) শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন একমাত্র পুত্রবধূ আরিফা আক্তার (২৬)।

গ্রেফতাররা হলেন— নিহতের পুত্রবধূ আরিফা আক্তার (২৬), পিরুজালী আলিমপাড়া গ্রামের মরহুম আব্দুল মান্নানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৪৬) ও একই গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪৫)। মামলার প্রধান আসামি পুত্রবধূ আরিফা আক্তারের স্বীকারোক্তিতে তার ঘর থেকে লুট করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এর আগে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আনিছুর রহমানের নিজ বাড়িতে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজায় নিহতের একমাত্র পূত্রবধূ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের গৃহবধূ আছমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটে। রাতের ওই সময়ে বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক ছিল না।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের একমাত্র ছেলে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়। একপর্যায়ে আরিফা আক্তার তার শাশুড়িকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনার সাথে তাকে আরো দু’জন সহযোগীতা করেছে বলে জানায়।

পরে পুলিশ বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতেই ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামি উজ্জ্বল হোসেন ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করে।

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর বলেন, গৃহবধূ আছমা আক্তারের স্বামী আনিছুর রহমান তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। নগদ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দ্যেশ্যেই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।