নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর ভাঙন ঠেকাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর মাত্র প্রায় ২০০ ফুট দূরে বসিয়ে যান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে। খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা কলম্বিয়া গাইড বাঁধের ‘টি’ বাঁধসংলগ্ন বটতলী এলাকায় নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে বোমা মেশিন। পাইপের মাধ্যমে দিন-রাত নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রায় এক মাস ধরে এভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় সরকারি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নদীতীরের আবাদি জমি-বসতভিটা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোটখাতা কলম্বিয়া গাইড বাঁধের টি বাঁধের প্রায় ২০০ ফুট পশ্চিমে তিস্তার মধ্যে একটি বোমা মেশিন বসানো হয়েছে। মেশিনের সাথে পাইপ সংযোগ করে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের পাশাপাশি রাতেও মেশিন চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ছোটখাতা এলাকায় তিস্তার ভাঙন দীর্ঘদিনের। চলতি বন্যায় কৃষক রহিজ উদ্দিনের প্রায় ২৫ শতাংশ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি রয়েছে। নদীর তলদেশ থেকে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট জমিও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা।
রহিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখন ৫০ শতাংশ আবাদি জমি রয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে একসময় আমাদের আবাদি জমি হয়তো আর থাকবে না।’
কৃষক গেদা মাহমুদের ৩৫ শতাংশ আবাদি জমিও ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন তার বসতভিটা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল, লিয়াকত হোসেন ও বেলাল বলেন, নদীভাঙনে মানুষ যখন জমি ও বসতভিটা হারাচ্ছেন, তখন নদীর বুক কেটে বালু তোলার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নদী ও মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ভাকু ও তার লোকজন রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন এভাবে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
তবে রবিউল ইসলাম ভাকু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ভাঙনের ফলে নদীর মধ্যে আমাদেরও অনেক জমি আছে। সেই জমি ভরাট হওয়ায় সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছি।’
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘ডিমলা ইউএনওকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ভাঙনপ্রবণ তিস্তায় সরকারি অর্থে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধের এত কাছে যদি বালু উত্তোলন বৈধ হয়, তাহলে সেই অনুমোদনের ভিত্তি কি? আর যদি অবৈধ হয়, তাহলে প্রায় এক মাস ধরে নদীর বুকে যান্ত্রিকভাবে বালু উত্তোলন চলছে কিভাবে?



