চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে জনতার হাতে তুলে দেয়ার দাবিতে রাতভর পুলিশের সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের অন্তত দু’টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং তিন থেকে চারটি সাধারণ গাড়ি ভাংচুর করেছে। এরমধ্যে সড়ক অবরোধ করে আগুন-ভাঙচুরের একপর্যায়ে শুরু হয় তুমুল সংঘর্ষ। এতে দুই সাংবাদিকসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত বাকলিয়া কলেজ থেকে কর্ণফুলী সেতু এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
এসময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। তবে রাত ১টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এর আগে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে বাকলিয়া থানায় নিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। ওই সময় অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে না পেরে বিক্ষুব্ধরা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশের সাথে স্থানীয়দের সংঘর্ষ চলে।
শুরুর দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে নোবেল হাসান ও মো: আব্দুল্লাহ নামে দুই সাংবাদিক আহত হন।
পুলিশের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের বাকলিয়া থানার চরচাক্তাই নুর চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার বাসিন্দা চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এলাকাবাসী। অভিযুক্ত মনির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজের কর্মচারী।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মনিরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়।
অভিযুক্তকে নিয়ে পুলিশ থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার আগেই রাস্তায় নেমে পুরো এলাকা অবরুদ্ধ করে ফেলে স্থানীয়রা। পুলিশের গাড়ি আটকে মনিরকে বিচারের জন্য তাদের হাতে ছেড়ে দেয়ার দাবি জানায় তারা।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘অভিযুক্ত আমাদের হেফাজতে আছে। আজ শুক্রবার তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হবে।’



