সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি এবং মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রায় দুই হাজার রোগী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বুধবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের স্থায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাসপিয়ানুল হক ও রেজা নিলয়, নগরীর বালুচর এলাকার আবরার হোসেন ও জাহিদ, মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী এবং এক রোগীর স্বজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক শিশুরোগীকে জরুরি বিভাগে আনা হলে কর্তব্যরত এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের সাথে রোগীর স্বজনদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকে আরও লোকজন এনে এক চিকিৎসককে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইন্টার্ন চিকিৎসক রাকিন হান্নান জানান, আহত দুই চিকিৎসকের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, অপরজন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আহত রোগীর তিন স্বজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বুধবার সকাল থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছের সাথে বৈঠক করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মাইনুল জাকির বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় ইন্টার্ন ডক্টরস ফোরাম ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথক বিবৃতিতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
একই দাবিতে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের একাডেমিক শাটডাউন ঘোষণা করেছেন। তাদের বক্তব্য, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।



