বিরামপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশ বক্সের সামনে সোয়া আট ভরি সোনা লুটের ঘটনা ঘটেছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ইউপি সদস্যসহ সাতজনের নামে থানায় মামলা হয়েছে। এদের মধ্যে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লুট হওয়া সোনা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
গ্রেফতার চারজন হলেন— বিরামপুর পৌরশহরের কল্যাণপুর মহল্লার রিয়াজুল ইসলাম ওরফে শিয়ালুর ছেলে আশিক (২৬), পূর্বপাড়া মহল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল রেহমান ওরফে অরণ্য (২০), শিমুলতলী মহল্লার লুৎফর রহমানের ছেলে সাগর রহমান (২৪) ও প্রফেসরপাড়ার মোতালেব হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২০)। এদের মধ্যে আশিক স্বেচ্ছাসেবক দলের বিরামপুর পৌর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক।
পলাতক আসামিরা হলেন— বিরামপুর পৌর শহরের ইসলামপাড়ার সাইফুল ইসলামের ছেলে মো: সানি (১৯), রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত (২৫) ও উপজেলার ৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোহেল রানা (৪২)।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিরামপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিককে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব দলীয় পথ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর সুজাপুরের বাসিন্দা ও মিষ্টি জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী মানিক দত্ত তার ব্যবসায়ীর সোনা (আংটি, চেইন, বালা ও নাকফুল) হলমার্ক করতে বিরামপুর গোল্ড হলমার্ক সেন্টারে আসেন। কাজ শেষে সহকর্মী সোহেল রানাকে (চালক) সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ফুলবাড়ির পথে রওয়ানা হন মানিক দত্ত। পথে বিরামপুরের দুর্গাপুর (ঢিবি-শালবাগান) এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে পুলিশ বক্সের সামনে দু’টি মোটরসাইকেলে করে নয় থেকে ১০ জন তাদের পথরোধ করে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দেখিয়ে মানিক দত্তের প্যান্টের পকেটে থাকা সোয়া আট ভরি ওজনের সোনার পাত ও মোটরসাইকেলচালক সোহেল রানার মানিব্যাগ থেকে এক হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ব্যবসায়ীর সোয়া আট ভরি সোনা ডাকাতির মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও ডাকাতি হওয়া সোনা উদ্ধারে অভিযান অব্যহত আছে।



