দর্শনা সীমান্তে সামাদ সিন্ডিকেটের স্বর্ণ চোরাচালান

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারকৃষ্ণপুর–মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে সামাদ এই অপরাধ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক। স্থানীয়ভাবে তিনি স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
সামাদ
সামাদ |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের কামারপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ, হুন্ডি ও মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লেও চোরাচালান বন্ধ হয়নি, বরং সিন্ডিকেটগুলো আরো সংগঠিত হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সোমবার (১৫ জুন) ভোরে দর্শনার কামারপাড়া গ্রামের একটি আমবাগান থেকে চুয়াডাঙ্গা–৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন একটি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। সীমান্তে স্বর্ণ ও মাদকের পাশাপাশি এখন অবৈধ অস্ত্র পাচারও যুক্ত হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারকৃষ্ণপুর–মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের কিতাব আলীর ছেলে সামাদ এই অপরাধ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক। স্থানীয়ভাবে তিনি স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, তার অনুমতি ছাড়া সীমান্তে কোনো অবৈধ কারবার চলে না।

চোরাচালানের সময় মাঝেমধ্যে সাধারণ বাহক ধরা পড়লেও মূল হোতা সামাদ বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে তার সিন্ডিকেট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া অডিও ও ভিডিও রেকর্ডে সামাদ নিজেই স্বর্ণ পাচারে সম্পৃক্ততা ও সীমান্ত সিন্ডিকেট পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন। এক ভিডিওতে তাকে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতার পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে যেতে দেখা যায়, অন্যটিতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। এতসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সামাদ গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘এত বড় অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার পরও কেউ যদি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তবে প্রশ্ন ওঠে—তার খুঁটির জোর কোথায়?”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই সামাদ পার পেয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার ও চুয়াডাঙ্গা–৬ বিজিবিকে যৌথভাবে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, সামাদকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সীমান্তে অস্ত্র, স্বর্ণ ও মাদক পাচারের পেছনের রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।