ময়মনসিংহ মেডিক‌্যালে হামে দেড় মাসে ২৮ শিশুর মৃত্যু

বর্তমানে মমেকের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর তীব্র চাপ বিরাজ করছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল |ফাইল ছবি

ময়মনসিংহ মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতাল (মমেক)-এ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত দেড় মাসে ২৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরো এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশু সুমাইয়া আক্তার (৭) মুক্তাগাছা উপজেলার উজ্জল মিয়ার মেয়ে। গত ৮ মে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে জরুরি আইসিইউ প্রয়োজন হলেও কোনো শয্যা না পাওয়ায় সোমবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাবা উজ্জল মিয়া অভিযোগ করেন, ‘আইসিইউ সংকটই আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রধান কারণ। একটি বেডও পাওয়া যায়নি। বড় হাসপাতাল হয়েও যদি আইসিইউ না থাকে, তাহলে আমরা যাব কোথায়?’

তার অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা ও সংকটের কারণেই একের পর এক শিশুর প্রাণ ঝরে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১১ মে সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২০০-এর বেশি শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে প্রায় এক হাজার ১০০ শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্তত ৮৯ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো ২৪ শিশু। যাদের বেশিরভাগের বয়স সাত থেকে ১০ মাসের মধ্যে।

কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, বর্তমানে মমেকের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর তীব্র চাপ বিরাজ করছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত হয়ে সরাসরি মৃত্যু না হলেও পরবর্তী জটিলতা—বিশেষ করে নিউমোনিয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধার অভাব—এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আশার কথা, চিকিৎসা নিয়ে অনেক শিশুই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা: মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, গত দেড় মাসে হাম ইউনিটে এক হাজার ২২০টি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৯২ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। তবে ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে কয়েকশ শিশু চিকিৎসাধীন।

ডা: মাইনউদ্দিন আরো জানান, হামের এমন ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব এবং রোগীর এত চাপ তাদের কল্পনার বাইরে ছিল। ওষুধ ও জনবলের সংকটে আক্রান্ত শিশুদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করাই হতে পারে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।

এদিকে, হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত অতিরিক্ত শয্যা, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি এবং জনবল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।