ফরিদপুরের সালথায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে দু‘টি প্লটে প্রায় আট বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আনারসের চারা রোপণ করেছেন তিনি। আগামী বছর এসব গাছে ফল আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়া এই উদ্যোগকে ফরিদপুর জেলায় বাণিজ্যিক আনারস চাষের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কৃষক মিলন ফকির জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে আসছেন। গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে নিজের বাড়ির ছাদে আনারসের চাষ শুরু করেন। সেই উদ্যোগ সফল হওয়ায় এবার বৃহৎ পরিসরে আনারস আবাদে হাত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ছাদে লাগানো প্রতিটি গাছে এখন বড় বড় আনারস ঝুলছে। সেই সফলতা থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে আট বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আনারসের চারা রোপণ করেছি। আশা করছি, আগামী বছর ভালো ফলন পাবো। আমার এই উদ্যোগ দেখে অন্যরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবে।’
মিলন ফকির আরো বলেন, ‘আগামী বছর থেকে আনারসের পাশাপাশি চারা বিক্রিও করতে পারবো। আনারস একটি লাভজনক ফল। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘সালথায় প্রথমবারের মতো আট বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ শুরু হয়েছে, যা এ অঞ্চলে ফলচাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমরা চাই এ ধরনের লাভজনক ফল ও ফসলের আবাদ আরো বিস্তৃত হোক এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হোক।’
স্থানীয়দের মতে, মিলন ফকিরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুরে আনারস চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং কৃষকদের জন্য লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।



