উজানের ঢলে পোরশায় তলিয়ে গেল বোরো ধান

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঋণের দায় মেটাতে তারা কোমর সমান পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ করে শ্রমিক নিয়ে ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে পানির কারণে কোথাও কোমর পর্যন্ত নেমে ধান কাটতে হচ্ছে, আবার কাটা ধান রোদের অভাবে শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পোরশা (নওগাঁ) সংবাদদাতা

Location :

Porsha
ঋণের দায়ে পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা
ঋণের দায়ে পানিতে নেমে ধান কাটছেন কৃষকরা |নয়া দিগন্ত

নওগাঁর পোরশায় উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নিতপুর এলাকার বিভিন্ন বিলে পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কয়েকশত হেক্টর বোরো ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। কষ্টার্জিত ফসল চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ঋণের দায় মেটাতে তারা কোমর সমান পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ করে শ্রমিক নিয়ে ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে পানির কারণে কোথাও কোমর পর্যন্ত নেমে ধান কাটতে হচ্ছে, আবার কাটা ধান রোদের অভাবে শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।

নিতপুর গোপালগঞ্জের মোকছেদুল, বাংগালপাড়ার বেলাল হোসেন, আবু তালেব, শাহাজাহান, দিয়াড়াপাড়ার তফিজুল ও জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক কৃষক জানান, সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে পুনর্ভবা নদীতে পানি আসে। এর আগেই বিলে থাকা ধান কেটে ফেলা হয়। কিন্তু এ বছর বৈশাখের শুরুতেই আগাম পানি চলে আসায় উজানের ঢলে ধান তলিয়ে গেছে। গত চারদিন ধরে নদীর পানি আরো বাড়ায় নতুন জমিও পানিতে ডুবে গেছে। বেশির ভাগ কৃষক ঋণের টাকা নিয়ে বোরো চাষ করেছিলেন, কিন্তু ঢলের পানিতে সব হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনূর রশিদ জানান, বোরো জমিতে পানি প্রবেশ করে ৫ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে এবং ৩০ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উজানের ঢলে পুনর্ভবা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আরো জমি তলিয়ে গেছে।

তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, যেহেতু ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে, তাই লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের হেরফের হবে না। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।