রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন

হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন
রংপুরে হিমাগারের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু চাষীদের অনশন |নয়া দিগন্ত

হিমাগারের সংরক্ষণ ভাড়া কমানোর দাবিতে রংপুর ডিসি অফিস ক্যাম্পাসে গণ-অনশনে বসেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রায় ২ ঘণ্টা পর শরবত খাইয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের অনশন ভাঙিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করবে। অনশনকারীদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেট করে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ায় মহা লোকসানে পড়েছেন তারা।

বুধবার (১ জুলাই) বেলা পৌনে ১২টা থেকে কাচারী বাজার এলাকায় অবস্থিত ডিসি অফিসের ক্যাম্পাসের ভেতরের বটতলায় অনশনে বসেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা। প্রচণ্ড রোদকে উপেক্ষা করে সেখানে বিপুল পরিমাণ আলু চাষী ও ব্যবসায়ী যোগ দেন। অনেকেই কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়েও অংশ নেন।

অনশনে অংশ নিয়ে আলু চাষী ও ব্যবসায়ী সমিতির জেলা সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন এসি রুমে বসে প্রতি ৬০ কেজি বস্তা আলুর জন্য সংরক্ষণ মূল্য ৪৩০ টাকা করেছে। এতে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ মূল্য পড়ছে প্রায় সাত টাকা। ফলে এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে ২৪ টাকার উপরে। কিন্তু বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকায়।’

তৈয়বুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর পরামর্শেই এসব করা হচ্ছে। তিনি ১০টিরও বেশি কোল্ড স্টোরেজের মালিক হওয়ায় পুরো অ্যাসোসিয়েশনকে সিন্ডিকেট করে রেখেছেন। সে কারণেই রংপুর বিভাগের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে প্রতি বছর প্রতি বস্তায় ১০০ টাকারও বেশি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া ২৮০ টাকা। তাহলে রংপুরে কেন ৪৩০ টাকা হবে? সিন্ডিকেটের কারণেই এই পরিস্থিতি।’

তৈয়বুর রহমান ঘোষণা দেন, গত ১৭ জুন আমরা মহাসড়ক অবরোধ করলে জেলা প্রশাসক মহোদয় তদন্ত কমিটি গঠন করে দিতে চাইলেও এখন পর্যন্ত সেটা করা হচ্ছে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অনশন চলবে।

পরে দুপুর ২টায় অনশনস্থলে আসেন রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। তিনি আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দাফতরিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনশনস্থলে আসতে দেরি হয়েছে, এতে কষ্ট হয়েছে আলু চাষী ও ব্যবসায়ীদের। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করে সুপারিশ করবে। সেই অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশন মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া প্রতি কেজি ৬ টাকা ৭৫ পয়সার বদলে আমরা ৬ টাকা ৩২ পয়সা করে সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। আমরা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে উপস্থাপন করে ভাড়া বাড়ানোর দাবি করেছি। যারা এসব আন্দোলন করছে, মব তৈরির চেষ্টা করছে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত। এছাড়াও যদি কেউ সরকার নির্ধারিত ৬ টাকা ৭৫ পয়সা কেজির বেশি নেয়, সেই হিমাগার মালিকদেরকেও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

সূত্র জানায়, রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) রমিজ আলমকে আহ্বায়ক এবং কৃষি বিপণন অধিদফতরের ডিডিকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ব্যবসায়ী, চাষী ও হিমাগার মালিক পক্ষের লোকজনকে সদস্য করা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটির সদস্য আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

গেল ১৭ জুন একই দাবিতে রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ছয় লেনের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছিলেন আলু চাষী ও ব্যবসায়ীরা।