ফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলে নিহত, অগ্নিসংযোগ

​নিহতরা হলেন—ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমতল এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহান (৪৫) ও তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (২২)।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Fatikchhari
ফটিকছড়িতে  বাবা-ছেলেকে চাপা দেয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটিসির বাসে অগ্নিসংযোগ করে
ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলেকে চাপা দেয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বিআরটিসির বাসে অগ্নিসংযোগ করে |নয়া দিগন্ত

​চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতরা হলেন—ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আমতল এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহান (৪৫) ও তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (২২)।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা বিআরটিসির একটি বাস বেপরোয়া গতিতে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় পৌঁছালে বাসটি প্রথমে সড়কে থাকা দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। এর পরপরই বাসটি সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে বাসের নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়।

​দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় জনতা ও পথচারীরা উত্তেজিত হয়ে বিআরটিসি বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে শত শত দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সরিয়ে নেয়া হলে দুর্ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

​ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে বাসে আগুন দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘাতক বাসের চালককে আটক করা হয়েছে।

​তিনি আরো জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই বিষয়ে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।