বাবা-মা ঈদে ফিরছিলেন, আগেই গাছচাপায় প্রাণ গেল শিশু ফয়েজের

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকীকান্দা গ্রামে প্রবল ঝড় ও দমকা বাতাসে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ফয়েজের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Matlab Uttar
মতলব উত্তরের টরকীকান্দা গ্রামে ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে নিহত শিশু ফয়েজ (ইনসেটে)
মতলব উত্তরের টরকীকান্দা গ্রামে ঝড়ে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে নিহত শিশু ফয়েজ (ইনসেটে) |নয়া দিগন্ত

চাচার ঘরে দাদী মমিনা খাতুনের পাশে ঘুমিয়ে ছিল ছোট্ট ফয়েজ (১১)। আর মাত্র একদিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা। নারায়ণগঞ্জ থেকে বাবা-মায়ের বাড়ি ফেরার কথা ছিল বিকেলে। ছেলের জন্য কেনা হয়েছিল নতুন পোশাকও। কিন্তু ঈদের আনন্দের অপেক্ষায় থাকা সেই পরিবারের ঘরেই নেমে আসে শোকের ছায়া।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের টরকীকান্দা গ্রামে প্রবল ঝড় ও দমকা বাতাসে ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে ফয়েজের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়েজ ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে এবং স্থানীয় গজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে ঝড়ের সময় ফয়েজ দাদী মমিনা খাতুনের সাথে চাচার ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ একটি বড় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ওই সময় ফজরের নামাজ পড়তে বাইরে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান দাদী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজের বাবা আবু তাহের নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশা চালান। মা-বাবা সেখানেই থাকলেও পড়াশোনার সুবিধার্থে সন্তানকে গ্রামের বাড়িতে দাদীর কাছে রাখা হয়েছিল। ঈদে ছেলেকে নিয়ে আনন্দ করার প্রস্তুতিও ছিল তাদের। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই আসে মৃত্যুর খবর।

নিহতের দাদী মমিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “রাতে আমার পাশে ঘুমাইছিল আমার নাতি। ভোরে ঝড়ের শব্দে ঘুম ভাঙে। একটু পরই গাছটা ঘরের ওপর পড়ে যায়। আমার চোখের সামনেই সব শেষ হইয়া গেল।”

বাবা আবু তাহের বলেন, “ছেলের জন্য ঈদের নতুন জামা কিনছিলাম। বিকালে বাড়ি আসার কথা ছিল। আল্লাহ আমার সব শেষ করে দিল।”

মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে।