ক্যামেরার সামনে নেই মুখ, নেই তারকাখ্যাতির চাকচিক্য। তবুও শুধু হাতের নিপুণতা, সৃজনশীলতা আর বাস্তব জীবনের উপকারী পরামর্শ দিয়েই প্রায় ১০ লাখ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার তরুণী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মৌমিতা রহমান মৌ।
আলমডাঙ্গা পৌরসভার কোর্টপাড়ার বাসিন্দা মো: মোমিনুর রহমানের মেয়ে মৌমিতা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক অনুপ্রেরণার নাম। নিজের মুখমণ্ডল প্রকাশ না করেও যে সততা, মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে অনলাইনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব, তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০২৪ সালের মে মাসে কনটেন্ট তৈরির যাত্রা শুরু করেন মৌমিতা। শুরুতে রান্নাবান্না এবং দৈনন্দিন জীবনের অনুপ্রেরণামূলক বিষয় নিয়ে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করতেন। সময়ের সাথে সাথে তার কনটেন্টের পরিধি ও দর্শকপ্রিয়তা দু’টোই বেড়েছে।
বর্তমানে তিনি গৃহিণীদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে ঘরোয়া টিপস, সহজ ও স্বাস্থ্যকর রান্নার কৌশল, সংসার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করছেন। সম্প্রতি তিনি অ্যানিমেশন ও কার্টুনের মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপন শুরু করেছেন, যা দর্শকদের কাছে বেশ সাড়া ফেলেছে।
মৌমিতা রহমান মৌ বলেন, ‘ছোট ছোট কাজের কৌশল অনেক সময় মানুষের জীবনকে সহজ করে দিতে পারে। আমার ভিডিও দেখে অনেক গৃহিণী নিজেদের জীবনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। তাদের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের নারীরা শুধু ঘর-সংসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও পরিশ্রম থাকলে যে কেউ নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেন। আমার পথচলা দেখে যদি একজন নারীও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে সাহস পান, সেটাই হবে আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।’
তার বিশ্বাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করলে এটি হতে পারে শিক্ষা, সচেতনতা ও আত্মকর্মসংস্থানের শক্তিশালী মাধ্যম। পারিবারিক মূল্যবোধ ও শালীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার কারণে শুরু থেকেই পরিবারের সমর্থন পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যতে আরো মানসম্মত ও তথ্যবহুল কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি একটি নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন মৌমিতা। যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন সমস্যার সহজ ও কার্যকর সমাধান খুঁজে পাবেন।
এক সময় নিজের রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ থাকা এই তরুণীর হাতের জাদু আজ ছড়িয়ে পড়েছে লাখো মানুষের পর্দায়। মুখ আড়ালে রেখেও যে মেধা ও কর্মই মানুষের প্রকৃত পরিচয় হয়ে উঠতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন আলমডাঙ্গার মৌমিতা রহমান মৌ।


