দামুড়হুদায় কোরআন শিক্ষা কর্মসূচি ঘিরে জামায়াত-বিএনপি উত্তেজনা

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

Location :

Damurhuda

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার (১২ জুলাই) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন ও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা মডেল মসজিদের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের উদ্যোগে কয়েক শ' নারীর অংশগ্রহণে কোরআন শিক্ষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মতু মিয়াসহ কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চান। জামায়াতের পক্ষ থেকে এটি কোরআন শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বলে জানানো হলেও বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সেখানে রাজনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার সময় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের বহনকারী দুটি মাইক্রোবাস দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ওই গাড়িগুলোতে অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুললেও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নেয়া নারীদের নিরাপদে সরিয়ে দেন।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাবনী ইয়াসমিন মসজিদের সুপারভাইজার শাহজাহান আলীকে ডেকে কক্ষ ভাড়া দেয়ার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেন। একই সাথে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মসজিদের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে, মসজিদে উপস্থিত নারীদের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে রোববার বিকেলে জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় এক জামায়াতকর্মী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পৃথকভাবে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাবনী ইয়াসমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম এবং পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, যুগ্ম সম্পাদক মতু মিয়াসহ নেতাদের সাথে আলোচনা করে উভয় পক্ষকে সরে যেতে রাজি করানো হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।