সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে নিঃস্ব ১০ পরিবার, হুমকিতে আরো শতাধিক

সুন্দরগঞ্জ থেকে মাওলানা ভাসানী সেতু সড়কের প্রায় ১০০ মিটার পূর্ব দিকে শখের বাজার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন চলছে।

রেজাউল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

Location :

Sundarganj
সুন্দরগঞ্জের শখের বাজার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের দৃশ্য
সুন্দরগঞ্জের শখের বাজার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তার শাখা নদীর তীব্র ভাঙনে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের শখের বাজার এলাকায় একের পর এক বসতভিটা, গাছপালা, বাঁশঝাড় ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে দশটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আরো শতাধিক পরিবার।

সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ থেকে মাওলানা ভাসানী সেতু সড়কের প্রায় ১০০ মিটার পূর্ব দিকে শখের বাজার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন চলছে। গত পাঁচ থেকে ছয় দিনের ভাঙনে ফজলু মিয়া, আলম মিয়া, হাফিজার রহমান, আশেক আলী, বাবলু মিয়া, মঞ্জু মিয়া, খলিল মিয়া, আকবার আলী, বিধবা রহিমা ও আবুল কালামের পরিবারের ঘরবাড়ি, গাছপালা, বাঁশঝাড় ও শাক-সবজির ক্ষেত নদীতে তলিয়ে গেছে।

হঠাৎ তিস্তা নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ নদী ভাঙনের আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় আতঙ্কের মধ্যেই ঘটে আরেকটি দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ মাটির বিশাল একটি অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এতে সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি পানির স্রোতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয়দের দাবি, শখের বাজার কালির খামার এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েক দফা ভাঙন হয়েছে। এবার নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় অন্তত শতাধিক পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তারা দ্রুত নদী ভাঙনরোধে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মনোয়ার আলম সরকার বলেন, আমি নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য কোনোপ্রকার ত্রাণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান, নদীভাঙন মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পুনর্বাসনের বিষয়েও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সাথে আলোচনা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই বরাদ্দ পাব।

নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান জানান, যত দ্রুত সম্ভব জিও ব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে আরো শত শত ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।