অভিযুক্ত ধর্ষকের হুমকির মুখে ঘরছাড়া ভিকটিমের পরিবার

নেত্রকোনায় মুখে স্প্রে করে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ

বাসায় একা পেয়ে মুখে স্প্রে করে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধীকে (২৪) ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত রেনু মিয়াকে আসামি করে নেত্রকোনার সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফজলুল হক রোমান, নেত্রকোনা
অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত রেনু মিয়া
অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত রেনু মিয়া |নয়া দিগন্ত

বাসায় একা পেয়ে মুখে স্প্রে করে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধীকে (২৪) ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত রেনু মিয়াকে আসামি করে নেত্রকোনার সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের চুচুয়া পূর্বপাড়ায় গত ২৬ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে।

এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত অভিযুক্ত রেনু মিয়ার উপর্যুপরি হুমকির মুখে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তার অভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে বসবাস করছেন।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (১২ মে) ঘটনাস্থলে তদন্তকালে অভিযুক্ত ধর্ষকের লোকজনের বাঁধার মুখে পড়েন পিআইবি’র তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীরা। ভয়ে সাক্ষী না দিয়েই চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন কেউ কেউ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত পাঁচ বছর ধরে জনৈক মোবাইল মেকানিক চুচুয়া পূর্বপাড়া গ্রামে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার দিন গত ২৬ এপ্রিল ওই মেকানিক পেশাগত কাজে প্রতিদিনের মতো শহরে চলে যান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রয়োজনের তাগিদে অন্যত্র থাকায় ভিকটিম অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী তার দুই বছরের শিশুকন্যা নিয়ে বাসায় অবস্থান করছিলেন।

গেট ও ঘরের দরজা আটকাতে ভুলে যাওয়ার সুযোগে বেলা ১১টার দিকে পাশের চুচুয়া কান্দাপাড়ার মরহুম রশিদ মিয়ার ছেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রেনু মিয়া (৫০) ফাঁকা বাসায় প্রবেশ করে দরজা আটকে শিশুটিকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে চুপ থাকার ভয় দেখিয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই প্রতিবন্ধীর নাকে, মুখে বিশেষ কেমিক্যালযুক্ত স্প্রে’র মাধ্যমে বাকরুদ্ধ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে চলে যায়। প্রচুর রক্ত ক্ষরণের ফলে ধর্ষিতার গর্ভজাত সন্তানটি নষ্ট হয়ে যায়।

অভিযুক্ত ধর্ষকের বিচারের এলাকার গণ্যমান্য ও মুরুব্বিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ২৬ এপ্রিল নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে সেখানেও মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।

অবশেষে গত ৪ মে ধর্ষিতা নিজেই বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এ ব্যাপারে বিজ্ঞ বিচারক পিআইবিকে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।