মেহেরপুর প্রতিনিধি ও গাংনী সংবাদদাতা
হামের উপসর্গ নিয়ে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে ৩৫ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৫, মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ ও গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি হয়েছে।
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সুস্থ হয়ে উঠলেও বর্তমানে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল, গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০ জন শিশু।
রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই অল্পবয়সী শিশু। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশু। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ ডোজ টিকা পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে।
দিন দিন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ এবং গাংনী ও মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে।
খোলা হয়েছে আইসোলেশন ইউনিট। তবে এসব আইসোলেশন ইউনিট চালু থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে সীমিত।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডাক্তার এ কে এম আবু সাঈদ জানান, ‘হাম রোগীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরী হয়েছে। এখন পর্যন্ত মেহেরপুর জেলায় ৩৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যারা সকলেই শিশু।’
তিনি বলেন, ‘হামের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই। দ্রুত হামের ভ্যাক্সিনেশনের প্রোগ্রাম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখতে হবে।’
বর্তমান পরিস্থিতিতে সচেতনতা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করাই হতে পারে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।



