দৌলতপুরে পাম্পের তেল ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ আহত ১০

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা এলাকার চামনা কলেজ গেট সংলগ্ন রফিক তেল পাম্পে এ সংঘর্ষ ঘটে।

Location :

Kushtia
চিকিৎসাধীন আহতদের একাংশ
চিকিৎসাধীন আহতদের একাংশ |নয়া দিগন্ত

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পেট্রোল পাম্প থেকে তেল ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের আল্লারদর্গা এলাকার চামনা কলেজ গেট সংলগ্ন রফিক তেল পাম্পে এ সংঘর্ষ ঘটে।

আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন আমিনুদ্দিন মন্ডল (৬৫), আফফান উদ্দিন মন্ডল (৬০) এবং শামীম মন্ডল (৩৫)।

এ ছাড়া দৌলতপুর হাসপাতালে এবং পার্শ্ববর্তী ভেড়ামারা ষোলদাগ হাসপাতালে ভর্তি আছেন হেলাল মন্ডল (৫৭), রাজা মিয়া (৩৯), মোছাম্মৎ রত্না খাতুন (৩৫) এবং রানা মন্ডল (২৮)। অন্য আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোছাম্মৎ শিউলি আক্তার (৪১), রিতু খাতুন (২৫) এবং রাকিবুল মন্ডল (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাম্পের তেল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। রাতে তেলের ভাগাভাগি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় চলমান তেল সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র পাম্পের তেল অবৈধভাবে ভাগাভাগি করে কালোবাজারে বিক্রি করছে—এমন গুঞ্জন স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেকে) ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এ এলাকায় তেল সঙ্কটকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট প্রায় তেলের অবৈধ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকে। মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষ ওই সিন্ডিকেট ও তাদের আধিপত্যের দ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ গ্রাহক ও এলাকাবাসী অবৈধ তেল বাণিজ্য ও তেল কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তেল সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে কোনো চক্র কালোবাজারির সাথে জড়িত কিনা, তা আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কুমার দাস বলেন, ‘পাম্পের তেল নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়েছি। তেলের অবৈধ ব্যবসা বা আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’