ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পাঁচ বছরের শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই আদেশে আসামির পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার এ টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরো সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ মামলায় ঘটনা সংঘটিত হওয়া থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত ১১৬ দিনের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা কারা হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। অন্যদিকে, হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু তাবাসসুম মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তবে শিশুটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল। তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশনে কর্মরত আছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেয়ার লোভ দেখিয়ে শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। ঘটনার পরদিনই পুলিশ, আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে এবং তদন্ত শেষে গত ১৬ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
তাবাসসুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক জেল্লাল হোসেন জানান, ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ ও ১৮ জুন মোট ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২২ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করে আদালত।
সরকার পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম ও আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন। মামলাটির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন পিপি এস এম মশিউর রহমান। মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে আদালত এ সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম জানান, অভিযোগ গঠনের পর মাত্র পাঁচ কার্য দিবসে এ রায় ঘোষণার মাধ্যমে ঝিনাইদহের বিচারব্যবস্থায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। এতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরো বেড়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান।



