প্রিয় দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে না পেরে প্রতিবাদস্বরূপ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভাত খাননি ইনু মিয়া (৮০)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খাওয়া শুরু করলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ হাতে ভাত খাওয়ায়ে দেন তাকে।
ইনু মিয়া জগৎচর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মরহুম সুলায়মান মিয়ার ছেলে। তিনি কৃষিশ্রমিক হিসেবে মানুষের জমিতে কাজ করতেন।
নিজ দলের প্রিয় নেতার হাতে ভাতের প্লেট তুলে দেয়ার পর থেকে হাসি মুখে ভাত খাওয়া শুরু করেন তিনি। এর আগে তিনি শুধু কলা, রুটি, বিস্কুটসহ শুকনা খাবার খেয়েই কাটিয়েছেন ১৭ বছরেরও বেশি সময়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১২ জানুয়ারি উপজেলার রামদী ইউনিয়নের জগৎচর পশ্চিমপাড়ায় স্থানীয় বিএনপির এক কর্মীসভায় নেতাকর্মীরা ভাত-তরকারি এনে ইনু মিয়াকে খেতে অনুরোধ করেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে ইনু মিয়া বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলেই তবে তিনি ভাত খাবেন।’
সেদিন প্রতিমন্ত্রী মো: শরীফুল আলম কথা দিয়েছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ইনু মিয়াকে নিজ হাতে ভাত খাওয়াবেন। তার দেয়া কথা রাখতে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ভাত খাওয়ান তিনি।
ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যে ব্যক্তি দলকে ভালোবেসে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন আমাদের উচিত তার পাশে থাকা। ভাত না খেয়ে বয়োবৃদ্ধ ইনু মিয়া প্রতীকী প্রতিবাদ করে গেছেন। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা তার যে কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবো।’
ইনু মিয়াকে একটি নতুন ঘর ও একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করে বলেন, ‘দলের কোনো নেতাকর্মী কোনো অন্যায়ের সাথে জড়িত হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
কথা হয় ইনু মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘পছন্দের দলীয় প্রতীকে ভোট দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলাম। এরপর থেকে আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত মরে গেলেও ভাত খাবো না।’
তিনি আরো বলেন, ‘দল ক্ষমতায় এসেছে। আমার প্রিয় নেতা শরীফুল আলম ভাই নিজ হাতে আমার প্লেটে ভাত তুলে দিয়েছেন। আমিও ভাত খাওয়া শুরু করে দিয়েছি। তবে আলম ভাই বলেছিলেন, আমাকে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দেবেন। আমারও আশা ছিল বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করার। সেই আশা আর পূরণ হল না। তবে আমার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে আমার দুঃখের কথাগুলো বলার।’
ইনু মিয়ার স্ত্রী জোছনা খাতুন বলেন, ‘উনাকে অনেক চেষ্টা করেছি ভাত খাওয়ানোর কিন্তু পারিনি। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে এসেও ভাত খাওয়াতে পারিনি। উনার একটাই কথা ছিল—যতদিন না বিএনপি ক্ষমতায় আসবে ততদিন ভাত খাবেন না। রুটি, পুরি, বিস্কুট, চা এগুলো খেয়ে বেঁচে ছিলেন এতো দিন। একমাত্র মেয়ে মার্জিয়া খাতুনের বাড়িতে গিয়েও ভাত খাননি তিনি। এতদিন পর তিনি ভাত খেয়েছেন অনেক আনন্দ লাগছে।’
রামদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: আকরাম খান ও সাধারণ সম্পাদক অলি উল্লাহ বলেন, ‘ইনু মিয়া একজন বিএনপিপ্রেমী লোক। উনি বিএনপিকে খুব ভালোবাসেন। ২০০৮ সাল থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ ভাত না খেয়ে ছিলেন। অবশেষে আজ আমাদের প্রিয় নেতা শরীফুল আলম ভাইয়ের মাধ্যমে ভাত খেলেন তিনি।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: কিতাব আলী, সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: শাহ আলম, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ফারুকুল ইসলাম ফারুক, রফিকুল ইসলাম আলী, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো: কামরুল ইসলাম মুছা, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন মান্নান, রামদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: মজনু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো: সাফি উদ্দিন, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহসিন রানা, সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাসুদ আহমেদ ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।



