দুই দিন ধরে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় পথে পথে ছুটেছেন মা-বাবা। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল ছোট্ট সেঁজুতির হাসিমাখা মুখ। দেশজুড়ে অনেকেই প্রার্থনা করেছিলেন শিশুটি যেন সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে আসে। কিন্তু তা আর হলো না। সোমবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে উদ্ধার হয়েছে আট বছর বয়সী সেঁজুতির লাশ।
নিহত সেঁজুতি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৪টার পর থেকে নিখোঁজ হয় সেঁজুতি। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। ওই রাতেই মেয়েকে উদ্ধারের আশায় সখীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বাবা।
পরিবারের দাবি, রোববার রাতে একটি ফোনকল আসে। ফোনে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আর ফিরে আসেনি পরিবারের আদরের সন্তান।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদ পুকুরে একটি শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা লাশটি সেঁজুতির বলে শনাক্ত করেন।
শোকে ভেঙে পড়া বাবা ফালু চন্দ্র মালু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'আমার ছোট্ট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।'
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হেলাল উদ্দিন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে সেঁজুতির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সখীপুরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সখীপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল শিশু সেঁজুতির লাশ
আমার ছোট্ট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
Location :
Tangail



