বৈরী আবহাওয়া ও অবৈধ ট্রলিং, কলাপাড়ার জেলে জীবনে হতাশা

আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, জুলাই থেকে অক্টোবর ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও এবার জালে কাঙ্ক্ষিত বড় ইলিশের দেখা মিলছে না। একেকটি ট্রলারে লাখ লাখ টাকার বাজার-সদাই করে সাগরে পাঠিয়ে প্রতিবারই লোকসান গুনতে হচ্ছে। ধার-দেনা করে সংসার চালানো জেলেরা এখন দিশেহারা।

Location :

Patuakhali
বৈরি আবহাওয়ার কারণে ঘাটেই নোঙর ফেলে আছে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার
বৈরি আবহাওয়ার কারণে ঘাটেই নোঙর ফেলে আছে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার |নয়া দিগন্ত

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপকূলীয় জেলেদের জীবনে নেমে এসেছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। সরকারি ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে গেলেও, দফায় দফায় নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে হাজারো জেলেকে। এতে ট্রলার মালিক, আড়তদার ও ঘাট শ্রমিকসহ এ পেশার সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা এখন হুমকির মুখে।

শনিবার (১৮ ‍জুলাই) সরেজমিনে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ হতাশার কথা জানা যায়।

জেলে ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলদস্যুদের উৎপাত, অন্যদিকে অগভীর বঙ্গোপসাগরে দিন দিন বাড়ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন অবৈধ ট্রলিং বোটের সংখ্যা। ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও নিষিদ্ধ বটম ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের তলদেশ ছেঁকে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে কোটি কোটি মাছের পোনা ও মা ইলিশ। ফলে সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞার আসল সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, জুলাই থেকে অক্টোবর ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও এবার জালে কাঙ্ক্ষিত বড় ইলিশের দেখা মিলছে না। একেকটি ট্রলারে লাখ লাখ টাকার বাজার-সদাই করে সাগরে পাঠিয়ে প্রতিবারই লোকসান গুনতে হচ্ছে। ধার-দেনা করে সংসার চালানো জেলেরা এখন দিশেহারা।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র বারবার খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ছে, ফলে মাছের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পেতে সমুদ্রের মোহনা খনন করার পাশাপাশি উপকূলবর্তী পলি ও রাসায়নিক দূষণ রোধ করা জরুরি।