গাইবান্ধায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই যমুনা তীর রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লকে ধস

সাঘাটার ৭ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন হতে গাইবান্ধার ফুলছড়ির কাতলামাড়ি এবং সাঘাটার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে গেছে।

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
গাইবান্ধা কাজ শেষ হওয়ার আগেই যমুনা তীর রক্ষা প্রকল্পে সিসি ব্লকে ধস
গাইবান্ধা কাজ শেষ হওয়ার আগেই যমুনা তীর রক্ষা প্রকল্পে সিসি ব্লকে ধস |নয়া দিগন্ত

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ৭ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শত কোটি টাকার যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন হতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামাড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দপুর ও হলদিয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লক ধসে গেছে।

‎সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে যমুনা নদীর সামান্য পানির চাপেই বাঁধের ১০ নম্বর সাইডের ব্লকগুলো ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও ফাটল ও ধসের চিহ্ন স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এমন ভাঙনের ঘটনা ঘটায় নির্মাণের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, উজান থেকে পানির চাপ বেড়ে কিছু জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

‎আরেক বাসিন্দা সাজু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি ঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে এভাবে ব্লক ভাঙার ঘটনা ঘটত না, দেখার যেন কেউ নেই।

‎মতিয়ার রহমান বলেন, এত টাকা খরচ হলেও বন্যা শুরু হওয়ার আগেই ব্লক ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা অসহায় হয়ে দেখছি।

‎এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল কবীর নয়া দিগন্তকে জানা যায়, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‎এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙন কবলিত কাজটি বর্তমানে চলমান অবস্থায় রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীর ব্যাংক লাইন ডিজাইনের বাইরে যাতে সরে না যায়, সেজন্য ঠিকাদার নিজ দায়িত্বে সাময়িকভাবে সিসি ব্লক প্লেসিং কাজ সম্পন্ন করেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙন কবলিত স্থানটি ডিজাইন মোতাবেক যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে। এর জন্য অতিরিক্ত কোনো ব্যয় হবে না। এছাড়া ভাঙন রক্ষার্থে পর্যাপ্ত সিসি ব্লক মজুদ রয়েছে। এই মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

‎পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২০–২০২১ ও ২০২১–২০২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙন হতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামাড়ি এবং সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দিয়া ও হলদিয়া এলাকা রক্ষায় প্রায় ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর গুরুত্বপূর্ণ ২২টি পয়েন্ট চিহ্নিত করে তিনটি প্যাকেজে ভাগ করে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ করে আসছে।