জুলাই মামলার ৫ আসামির আবেদন আমলে নিল ইউএনও

চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাতজন ইউপি সদস্য।

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

Location :

Lohagara
মামলা ও নোটিশের কপি
মামলা ও নোটিশের কপি |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এজাহারভুক্ত আসামিদের অনাস্থা প্রস্তাব আমলে নিয়ে ৯ নম্বর আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ইউনিয়ন পরিষদের সাত সদস্যের দেয়া অনাস্থা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এ নোটিশ জারি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ উত্থাপনকারী সাত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন স্বাক্ষরিত গত বৃহস্পতিবার একটি স্মারকে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাতজন ইউপি সদস্য। তারা হলেন ফরিদ আহমদ, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল মান্নান, সুজন কান্তি দাশ, মোহাম্মদ আবুল হাছান, সাজেদা বেগম এবং শিরিন আক্তার।

নোটিশে বলা হয়, চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত সভা, মিটিং কিংবা রেজুলেশন ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া পরিষদ পরিচালনায় আরো কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের জন্য উত্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগকারী সাত ইউপি সদস্যের মধ্যে পাঁচজনই নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এবং জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এ কারণে তাদের দেয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়েও স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা থাকা অবস্থায় তাদের অভিযোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়।

চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এক টাকারও দুর্নীতির প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। কী কী বিষয়ে শোকজ করা হয়েছে, সেটি এখনো বিস্তারিত দেখতে পারিনি। সব দেখে আইন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত জবাব দেব।’

লোহাগাড়ার ইউএনও বায়েজিদ বিন আখন্দ বলেন, ‘অভিযোগকারীদের মধ্যে কেউ মামলার আসামি এ তথ্য আমার জানা ছিল না। অনাস্থা প্রস্তাব পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’