ভোলায় চালুর ৮ মাসেই স্টেডিয়ামের বেহাল দশা, ব্যবহারের অনুপযোগী ক্রিকেট পিচ

স্টেডিয়ামের বিভিন্ন ভবনে দেখা দিয়েছে ছোট ছোট ফাটল, ধসে পড়ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ভিআইপি গ্যালারির তিনটি গ্লাস। গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। আর আউটডোরে টিনের চালার জীর্ন অবস্থা।

ভোলা প্রতিনিধি

Location :

Bhola
ভেঙে গেছে ভিআইপি গ্যালারির কাচ, (ডানে) ভেঙে যাওয়া কাচের টুকরো
ভেঙে গেছে ভিআইপি গ্যালারির কাচ, (ডানে) ভেঙে যাওয়া কাচের টুকরো |নয়া দিগন্ত

ভোলায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ণ করা হয় গজনবী স্টেডিয়াম। তবে এটি নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের আট মাস না পেরোতেই ভবন, গ্যালারি ও ক্রিকেট পিচে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব আর টানা বর্ষণে ক্রিকেট পিচ এখন খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষোভ আর অসন্তোষ বিরাজ করছে ক্রিকেটারদের মধ্যে।

জানা গেছে, এক সময় জেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণকেন্দ্র ছিল ভোলা গজনবী স্টেডিয়াম। আধুনিকায়নের পর নতুন রূপ পাওয়ায় খেলোয়াড়দের মাঝে ফিরে এসেছিল প্রাণচাঞ্চল্য। কিন্তু বর্তমানে এই স্টেডিয়ামের নির্মাণের মান নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।

স্টেডিয়ামের বিভিন্ন ভবনে দেখা দিয়েছে ছোট ছোট ফাটল, ধসে পড়ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ভিআইপি গ্যালারির তিনটি গ্লাস। গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। আর আউটডোরে টিনের চালার জীর্ন অবস্থা। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ক্রিকেট পিচের বেহাল অবস্থার কারণে নিয়মিত অনুশীলন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

খেলোয়াড় বেনুপাল ও নোমান বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রিকেট পিচ নষ্ট হয়ে গেছে। যদি এটি ঢেকে রাখা হতো তাহলে কিছুটা হলেও পিচটি সুরক্ষিত থাকতো। এমন পিচে ক্রিকেট প্রাকটিস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

কয়েকজন ক্রিকেটার বলেন, পিচ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট প্রাকটিস বন্ধ আছে। পিচটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি।

এদিকে চলতি বছরেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হওয়া ভোলা গজনবী স্টেডিয়ামের করুণ দশা নিয়ে ক্রীড়া সংগঠকদের ক্ষোভের যেন শেষ নেই। মানসম্মত পিচ না থাকায় প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা পিছিয়ে পড়ছেন। গ্লাস ভেঙে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্টেডিয়ামের কেয়ারটেকার আবুল হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই ভিআইপি গ্যালারির কাচ ভেঙে যায়। আমরা অনেক আতঙ্কে থাকি, কখন কার গায়ে আবার এই কাচ ভেঙে পড়ে।

অন্যদিকে ক্রীড়া সংগঠকরা দ্রুত পিচ সংস্কার ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের তদন্তের দাবি তুলেছেন। এ বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মুনতাছির আলম রবির চৌধুরী বলেন, যারা তখন দায়িত্ব ছিল তারা পিচ ও গ্যালারি ঠিকমতো বুঝে নেননি, তাই এমন করুণ দশা। তবে আমরা নিয়মিত ক্রিকেট পিচটি রক্ষণাবেক্ষণ করব।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সাপাতুল ইসলাম বলেন, স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

এদিকে জেলার ক্রীড়াবিদদের প্রত্যাশা, দ্রুত সংস্কার ও মানসম্মত অবকাঠামো নিশ্চিত করে ভোলা গজনবী স্টেডিয়ামকে আবারো খেলাধুলার উপযোগী করে তোলা হোক।