ঝালকাঠি-রাজাপুর মহাসড়কে বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, জনদুর্ভোগ শুরু

খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে চারদিনের বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে পিচঢালা কার্পেটিং। শতাধিক গর্তে যানচলাচলে বিঘ্ন ও জনদুর্ভোগ শুরু হয়েছে।

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

Location :

Jhalokati
ঝালকাঠি-রাজাপুর মহাসড়কে বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, জনদুর্ভোগ শুরু
ঝালকাঠি-রাজাপুর মহাসড়কে বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং, জনদুর্ভোগ শুরু |নয়া দিগন্ত

খুলনা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি-রাজাপুর অংশে চারদিনের বৃষ্টিতেই উঠে যাচ্ছে পিচঢালা কার্পেটিং। শতাধিক গর্তে যানচলাচলে বিঘ্ন ও জনদুর্ভোগ শুরু হয়েছে।

সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে যাওয়ায় বাড়ছে ছোট-বড় ও মাঝারি ধরনের খানাখন্দ। গত চার দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব খানাখন্দে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। খানাখন্দ মাড়িয়ে সড়কে প্রতিদিন চলাচলকারী স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এমনকি ভাঙা অংশগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজার এলাকা থেকে শুরু করে ঝালকাঠির বরিশাল প্রান্ত কালিজিরা ব্রিজ পর্যন্ত ২৬.৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশেষ করে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক।

ওই রুটের বাসচালক মাহবুব, আলমগীর ও সাইদুল জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দ্রুত সময়ে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হচ্ছে। গত বছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছিল। শুকনো মৌসুমে কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং কাজ করা হয়েছিল। কিন্তু চার দিনের বৃষ্টিতে সড়কটিতে আবার গর্ত হতে শুরু করেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে। হুটহাট গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খানাখন্দ থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে তিন চাকার ছোট যানবাহনগুলো।

স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহী কালাম, মিজু ও ফিরোজ জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যা দূর থেকে অনেক সময় চোখে পড়ছে না। ফলে এসব রুটে নতুন কোনো চালক এলেই দুর্ঘটনার মুখে পড়বেন।

ইজিবাইক চালক সালাম, হাসিব ও আল আমিন জানান, সড়কে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে খানাখন্দে গাড়ির চাকা আটকে যায়, স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো যায় না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বৃষ্টি শুরু হতে না হতেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় শিগগির সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। খানাখন্দ থাকায় যানবাহনের কর্দমাক্ত পানি ছিটে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা শিক্ষার্থীরাসহ অন্য পথচারীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ থাকায় সড়কের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এতে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আল-আমীন জানান, রাজাপুর-ভান্ডারিয়া সীমান্তে কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুরের উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়কে কার্পেটিং করা হয়েছিল। কানুদাসকাঠি থেকে রাজাপুর পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু রাজাপুর থেকে উত্তর পিংড়ি পর্যন্ত সড়কের পাশে গরু বিচরণ করায় গোবরের কারণে রাস্তার উপর যে প্রভাব পড়েছে, তা বৃষ্টিতে দৃশ্যমান হয়েছে। আর গাবখান ব্রিজের উপরে যে গর্ত হচ্ছে ওটা পুরাতন সমস্যা। বৃষ্টি কমলে সংস্কার করে সমাধান করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।