চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো: মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেয়া, নামজারি (খারিজ), খাজনা আদায় ও অন্য প্রশাসনিক কার্যক্রমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একটি কক্ষে টেবিলের সামনে বসা এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে মফিজুল ঘুষ নেন। পরে তিনি সেই টাকা গুনে নিজের পকেটে রেখে দেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমি অফিসে কাজ করেন বলে পরিচয় দেয়া এক ব্যক্তি বলেন, আমরা কাজ করে দিই। কাগজপত্র ঠিক থাকলে খারিজ করতে ছয় হাজার টাকা নিই। আবার কেউ কেউ আছে উম্মুক ধুম্মুক টাকা নেই, সেগুলো আমরা করি না। আর চেক কাটলে ২০০ টাকা, কখনো দুই হাজার, আবার কখনো পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
জামবাড়িয়া ইউনিয়নের সেবাগ্রহীতা মো: আলিমুদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা যেমন পাচ্ছে তেমনভাবে টাকা নিচ্ছে। আমার একটি দলিলের জন্য ছয় হাজার টাকা চেয়েছিল। পরে দু’টি দলিলের কথা বললে নয় হাজার টাকা দাবি করে। কোনো উপায় না পেয়ে আমি দু’টি দলিলের খারিজের জন্য নয় হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।’
এছাড়া ওই ইউনিয়নের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রকাশ্যেই ঘুষের লেনদেন হয়। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করা হয় না। নির্ধারিত টাকার চেয়ে কম দিতে চাইলে কাজ হয় না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) মো: মফিজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সাথে কথা বলুন।’
ভোলাহাট উপজেলার ইউএনও মো: নাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। যেহেতু একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



