বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার : চিনি ও খাদ্য শিল্প চেয়ারম্যান

আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয় এবং চাষিদের প্রণোদনা ছয় কোটি থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
কথা বলছেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ
কথা বলছেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ বলেছেন, ‘বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোসহ দেশের সব উৎপাদনমুখী কারখানা পুনরায় চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে এ শিল্পকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকল পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় চিনি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের প্রতিটি কারখানার চাকা সচল রাখা। এসব চিনিকলকে পুনরায় লাভজনক করতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের কাজ চলছে। আগামী অর্থবছরের মধ্যেই বন্ধ কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু করার আশা প্রকাশ করছি।’

তিনি জানান, আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয় এবং চাষিদের প্রণোদনা ছয় কোটি থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

চাষিদের ডিজিটাল সুবিধায় লেনদেনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আখের ওজন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই চাষির মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। আগের মতো একাধিক টেবিলে ঘোরার ঝামেলা এখন নেই। পাশাপাশি সফটওয়্যারের মাধ্যমে চাষিদের আবহাওয়া ও চাষাবাসের আগাম পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, দেশের চাহিদার বড় অংশ মেটানো এসব সরকারি চিনিকল লোকসানের মুখে পড়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকার ১৫টির মধ্যে ছয়টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। এগুলো হলো— শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকল। এতে চরম সঙ্কটে পড়েন লাখো আখচাষি ও হাজার হাজার শ্রমিক। এসব বন্ধ মিল চালুর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএফআইসির সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অডিট) মো: আব্দুল ওয়াহেদ, বিএসএফআইসির পরিচালক (অর্থ) আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বাণিজ্যিক অডিট) মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার প্রমুখ।

এছাড়া স্থানীয় চিনিকলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ইউনিয়ন ও আখচাষি নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।