ফটিকছড়িতে নতুন উপজেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Fatikchhari
ফটিকছড়িতে নতুন উপজেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ
ফটিকছড়িতে নতুন উপজেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন উপজেলার সদর দফতর মধ্যবর্তী কোনো স্থানে স্থাপনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন উত্তর ফটিকছড়ির বাসিন্দারা।

বুধবার (১ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার নারায়ণহাটে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে মঙ্গলবারও উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্নস্থানে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা।

বুধবার গহীরা-হেঁয়াকো আঞ্চলিক মহাসড়কের নারায়ণহাট যাত্রী ছাউনির সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় সড়কের দুই দিকে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।

বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ও গণশুনানির প্রতিবেদন উপেক্ষা করে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ভুজপুরে স্থাপনের চেষ্টা চলছে। তারা ভৌগোলিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী কোনো স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের দাবি জানান। দাবি মানা না হলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অবরোধ কর্মসূচিতে নারায়ণহাট ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি কামাল উদ্দিন শিকদার, ভুজপুর থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা আফসার ও শামসুল আলম, ভুজপুর থানা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের ও নারায়ণহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ফরিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ আরো জোরদার করেন, ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মো: ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করেন এবং অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। ইউএনওর আশ্বাসে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ফটিকছড়ি উত্তর নামে নতুন উপজেলা গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এর আগে, উত্তর ফটিকছড়ির তিনটি ইউনিয়নে পৃথক পৃথক গণশুনানির মাধ্যমে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন তৎকালীন ইউএনও সাব্বির রহমান সানি। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় জনগণের ভৌগোলিক সুবিধা ও সেবাপ্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জনমতের ভিত্তিতে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের এ মতামত উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরো বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।