প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস মেনে নেয়া যায় না

‘দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে গবেষণানির্ভর আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। নতুন এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস মেনে নেয়া যায় না। পরিবেশ রক্ষা করেই উন্নয়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভূমিকম্প, বন্যা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।’

বুধবার (২০ মে) বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়ায় ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আবাসন সঙ্কট বাড়ছে। শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না, সেখানে স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘দেশের আবহাওয়া দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখনকার আবহাওয়া আর এখনকার আবহাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের জন্য মানুষও অনেকাংশে দায়ী।’

উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংসের সমালোচনা করে তারেক রহমান জানান, ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ এলাকায় রাস্তা নির্মাণে গাছ কাটার পরিকল্পনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে বিকল্প নকশা প্রণয়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ক্ষতি মেনে নেয়া যায় না।’

ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার খাল খনন ও নদীর তীরবর্তী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।’ পদ্মা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে শুকনো মৌসুমে পানির সঙ্কট মোকাবেলা ও বন্যার সময় অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজও বিএনপি সরকারের সময়েই সম্পন্ন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে এবং জনগণকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে হবে।’

এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদ হাবিব দুলু বলেন, ‘দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে গবেষণানির্ভর আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। নতুন এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল তৈরিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাতাইশ মৌজায় প্রায় ৮ দশমিক ২০ একর জমিতে নির্মিতব্য এ ইনস্টিটিউটে প্রশাসনিক-কাম-অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক হোস্টেলসহ আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা থাকবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ নিয়ে গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরিই হবে প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। এছাড়া বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: সাইদুর রহমান খান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।

এর আগে সকালে সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আনসার বাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষাতেই নয়, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বন্দর ও পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যরা দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করছেন। অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগকালেও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে বাহিনীর ১৩ হাজারের বেশি ফ্রিল্যান্সার ও ফিল্ড ভিডিপি সদস্য বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থা তৈরিতে কাজ করছেন। একইভাবে নগর এলাকার টিডিভি সদস্যরা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্প, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বাহিনীটি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে আনসার বাহিনী আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে আনসার সদস্যদের কুচকাওয়াজ ও মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদর্শনী উপভোগ করেন। পরে তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আনসার সদস্যদের সমস্যার খোঁজখবর নেন।

দুই অনুষ্ঠানেই স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া টঙ্গীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মঞ্জুরুল করীম রনি, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: শওকত হোসেন সরকার, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: হাসান উদ্দিন সরকার, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো: শরাফ উদ্দিন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: নূরুল করিম ভূঁইয়া, জিএমপি কমিশনার মো: ইসরাইল হাওলাদারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।