বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেছেন, রিটার্নিং অফিসার নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। লিখিতভাবে একাধিকবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো অভিযোগ আমলে নেননি। তিনি একটি দলের পক্ষে কাজ করছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহর জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আবিদুর রহমান সোহেল লিখিত অভিযোগে বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠানের আশায় আমরা এ উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সরকারি দলের প্রভাবে নির্বাচনের পরিবেশ ততই কলুষিত ও ভীতিকর হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ করছি, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। আমরা বার বার প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনের সব কর্মকর্তা নিরপেক্ষ লোকদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছি। তিনি সরকারি দলের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রিজাইডিং অফিসারসহ সব ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করেছেন।
জামায়াত প্রার্থী বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায় হতে পারে এমন সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য তুলে ধরছি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, রিটার্নিং অফিসার এমন ব্যক্তিদের প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন, যারা সরাসরি সরকারি দলের পদধারী বা সক্রিয় সমর্থক। এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। উল্লেখ্য যে, ১০ দিন আগে ১৫০টি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকা দেয়ার দাবি করা হলেও রিটার্নিং অফিসার তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্নভাবে প্রিজাইডিং অফিসারদের তথ্য পেয়ে এরই মধ্যে ১৬ জনের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে প্রমাণসহ রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছি। রিটার্নিং অফিসারের এহেন অস্বচ্ছ ও দলীয় পদধারী লোকদের নির্বাচনে নিয়োগদানের জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সব প্রিজাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত দলীয় লোকদেরকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে মিছিলে অংশ নিয়েছেন। সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়েও তারা যেভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় লিপ্ত হচ্ছেন, তা সরকারি চাকরিবিধি ও নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা জানতে পেরেছি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামতে বাধ্য করা হয়েছে। এসব আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, গ্রামে গ্রামে আমাদের নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকিসহ নানা ভাবে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত প্রার্থী সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলে্ হলো-
১। সব দলীয় পদধারী ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারসহ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। তাদের পরিবর্তে নির্দলীয়, সৎ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে।
২। ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি স্বচ্ছ রাখার স্বার্থে পুরো ভোটদান প্রক্রিয়াকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।
৩। প্রিজাইডিং অফিসারদের পক্ষ থেকে ভোট শুরুর আগে থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত সব তথ্য ও নথিপত্র, বিধি মোতাবেক পোলিং এজেন্টদের সরবরাহ করার নির্দেশনা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া যাবে না।
৪। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে জটলা, মিছিল বা ভোটারদের প্রভাবিত করার যে কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করতে হবে। ভোট চলাকালে প্রচারপত্র বিলি বা অন্য কোনোভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করা যাবে না।
৫। নির্বাচনের আগের রাতে গ্রামে গ্রামে অবৈধ টাকা বিলি ও ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। এটি রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে।
৬। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ না করে সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বর্তমান ভূমিকা ভোট শেষ না হওয়া অবধি আরো কঠোরভাবে অব্যাহত রাখতে হবে।
৭। নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্রে ও বাইরে যে কোনো ধরনের মব তৈরির বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উত্থাপিত দাবি সমূহ পূরণ না হলে এবং নির্বাচনে অনিয়ম হলে ভোট বর্জন করবেন কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় আমরা উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ভোট বর্জনের কোনো ইচ্ছা নাই। আমরা জনগণকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার সুযোগ দিতে চাই। নির্বাচন কমিশন তার নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, উপনির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ স ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব ও জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হাকিম সরকারসহ জামায়াত নেতা অধ্যাপক রফিকুল আলম, আল-আমিন, ইকবাল হোসেন, আব্দুস ছালাম তুহিন, শাহীন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



