চুয়াডাঙ্গায় ২১ শিক্ষকের মাদরাসায় পাসের হার শূন্য, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

শিক্ষা বিভাগের দুর্বল তদারকি ও শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসা থেকে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৮ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও পাসের হার শূন্য শতাংশে নেমে আসায় স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন মহল ও পুরো জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২১ জন শিক্ষক পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন। চলতি বছর মাদরাসাটি থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও সোমবার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়- শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের এমন বিপর্যয়কর ফলাফলে চরম হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে মাদরাসাটিতে নামমাত্র শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ে ক্লাস সেরে শিক্ষকরা দায়িত্ব শেষ করেন। অনেক শিক্ষক নিয়মিত ও সময়মতো শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হন না। শিক্ষকদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই বছরের পর বছর ধরে এখানে ফল বিপর্যয় ঘটছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষকরা নিয়মিত আসেন না, পড়ালেখাও করান না, শুধু মাস শেষে বেতন তোলেন। এই অব্যবস্থাপনার কারণে সচেতন অভিভাবকরা এখন আর সন্তানদের এখানে ভর্তি করাতে চান না। গত এক দশক ধরেই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সঙ্কট ও টানা খারাপ ফল চলছে।’

ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়ুলগাছি দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুস সামাদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদরাসায় উপস্থিত হতো না। তবে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আগামীতে ফলাফলের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: রাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি পূর্বে একাধিকবার মাদরাসাটি পরিদর্শন করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছিলেন। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

শিক্ষা বিভাগের দুর্বল তদারকি ও শিক্ষকদের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।