দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) লাইব্রেরির সহকারী গ্রন্থাগারিক উত্তম কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর পর একাধিকবার ধর্ষণ ও স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু হাসান বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর।
ভুক্তভোগী ওই নারী দিনাজপুর সদরের ফাজিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী ওই নারী দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত উত্তম কুমারের সাথে ২০২৩ সাল থেকে তার পরিচয়। পরিচয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উত্তম কুমার তার সাথে শারীরিক সম্পর্কেও লিপ্ত হয়েছেন। পরিচয়ের এক পর্যায়ে কালি মন্দিরে উত্তম কুমার তাকে বিয়ে করেছেন।
উত্তম কুমার বিভিন্ন সময় মামলার ভয় দেখিয়ে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
বিগত ২৫ আগস্ট দিনাজপুরের রামসাগরে দু’জন ঘুরতে গেলে কয়েকজন ছেলে উত্তম কুমার ও ভুক্তভোগী ওই নারীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে চলে যায়। তারপর থেকেই উত্তম কুমার তাকে এড়িয়ে চলছেন বলেও জানান তিনি।
মোবাইল হারানোর বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় জিডি করলেও অভিযুক্ত উত্তম কুমার এবিষয়ে কোনো জিডি বা অভিযোগ করেননি। অভিযুক্ত উত্তম কুমার দাবি করেন, তার ফোনটি ওই নারীর সাথে ঘুরতে গিয়ে হারায়নি।
অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে উত্তম কুমার বলেন, ‘মেয়েটির সাথে আমার তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। মেয়েটির ব্যক্তিগত জীবনে নানান সমস্যা থাকায় আমরা কয়েকজন তাকে পড়ালেখার বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছিলাম। এক পর্যায়ে তাকে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় সে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় এবং আমার চাকরি খেয়ে ফেলবে ও বাসায় গিয়ে ঝামেলা করবে বলে হুমকি দেয়। শুধু তাই নয় আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করারও হুমকি দেয় সে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি আমি আমার কলিগদের অবহিত করলে তারা আমাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শে আমি গত ২৮ আগস্ট থানায় একটি জিডিও করেছি।’



