সাধু-সন্ন্যাসী আর বাউলদের পদচারণায় মুখর মহাস্থানগড়

‘গুরুকে ভক্তি জানাতে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য আমরা দল বেঁধে এখানে এসেছি। এই উৎসবে ভারত থেকেও সাধু-সন্ন্যাসীরা এসেছেন। এছাড়া সারাদেশ থেকেও এসেছেন।’

শিবগঞ্জ (বগুড়া) সংবাদদাতা

Location :

Shibganj
মহাস্থানগড়ে সাধু-সন্ন্যাসী, বাউল, ফকির ও দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়
মহাস্থানগড়ে সাধু-সন্ন্যাসী, বাউল, ফকির ও দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় |নয়া দিগন্ত

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড়ে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। আজ বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার হযরত শাহ সুলতান বলখী (র:)-এর মাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন সাধু-সন্ন্যাসী, বাউল, ফকির ও দর্শনার্থীরা। আধ্যাত্মিক পরিবেশের পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতির আবহে মুখর হয়ে উঠেছে প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুন্ড্রনগর।

মেলায় ঘুরে দেখা যায়, মাজার সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে বাউল ও ফকিররা দল বেঁধে গান গাইছেন। মারফতি, জারি, সারি ও মুর্শিদি গানের আসরে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ অস্থায়ী আস্তানা গড়ে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন সেখানে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবারকে ঘিরে এই উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে। কথিত আছে, ইংরেজদের বিতাড়িত করতে ফকির মজনু শাহ মহাস্থানগড়ের এই মাজারে বসেই ফকির বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন। এই বিদ্রোহকে স্মরণীয় করে রাখতেই বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর এ কারণেই মহাস্থানের বৈশাখী উৎসবে হাজারো ফকির-সন্ন্যাসীর আগমন ঘটে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মেলায় আসা হাবিবুর রহমান হাবিব ফকির বলেন, ‘গুরুকে ভক্তি জানাতে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য আমরা দল বেঁধে এখানে এসেছি। এই উৎসবে ভারত থেকেও সাধু-সন্ন্যাসীরা এসেছেন। এছাড়া সারাদেশ থেকেও এসেছেন।’

মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে কেনাবেচাও। খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, মিষ্টি, গৃহস্থালি পণ্য ও লোকজ সামগ্রীর দোকান বসেছে সারি সারি। শিশুদের কোলাহল আর মানুষের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মহাস্থান এলাকা।

স্থানীয় কটকটি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এ সময় ব্যবসা অনেক ভালো হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসায় বিক্রিও বাড়ে। এই উৎসবকে ঘিরে একদিনে মহাস্থানগড়ে কয়েক কোটি টাকার কটকটি কেনাবেচা হয়।’

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও নজরদারি করা হচ্ছে।