বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগ

লক্ষ্মীছড়িতে ১৫ দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু

১৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

Location :

Khagrachari
উদ্বোধনী দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের একটি দৃশ্য
উদ্বোধনী দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের একটি দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

লক্ষ্মীছড়ি (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৫ দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন ও জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়।

কর্মসূচি সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে জরুরি মুহূর্তে রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে এ প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবেন।

১৫ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল অফিসারদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণে তীব্র রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, জখমের প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের চিকিৎসা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবার ঘটনায় জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং নিরাপদ উপায়ে হাসপাতালে স্থানান্তরের কৌশল শেখানো হচ্ছে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে লক্ষ্মীছড়ি জোনের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ক্যাপ্টেন মো: সাব্বির হোসেন জানান, গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সার্বিক প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাকে গুরুত্ব দিয়েই এ প্রশিক্ষণ সাজানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের কমান্ডার বলেন, ‘উপজেলার দুর্গম অঞ্চলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে এ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে দুর্ঘটনা ও জরুরি পরিস্থিতিতে অকাল প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’