ব্রহ্মপুত্রে কলেজছাত্র নিখোঁজ, ২ দিনেও সন্ধান নেই

মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে এক কিশোরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
নিখোঁজ নুরুল্লাহ শাওন
নিখোঁজ নুরুল্লাহ শাওন |নয়া দিগন্ত

ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে সন্ধ্যার আড্ডা—হঠাৎই রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। ছিনতাইকারী কিশোর দলের ধাওয়া ও মারধরের ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছেন আনন্দমোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নুরুল্লাহ শাওন (২৬)। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবার ও সহপাঠীদের উৎকণ্ঠা বাড়ছে প্রতি মুহূর্তে।

নিখোঁজ শাওনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরজাকালিয়া গ্রামে।

তার মা বাদি হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে এক কিশোরকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

ঘটনাপ্রবাহ :
পুলিশ ও সহপাঠী সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকায় সময় কাটিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে যান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল তাদের ঘিরে ধরে। সাথে থাকা মুঠোফোন ও টাকা দাবি করে। টাকা না থাকায় শুরু হয় মারধর।

একপর্যায়ে শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে লক্ষ্য করে হামলা তীব্র হয়। প্রাণ বাঁচাতে দুই বন্ধু দুই দিকে দৌঁড় দেন। রিয়াদ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও শাওনের আর খোঁজ মেলেনি। পরদিন সকালে নদীর পাড়ে তার ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে ক্ষোভ :
শাওনকে অক্ষত উদ্ধারের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আনন্দমোহন কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

সহপাঠী রিয়াদ বলেন, ‘আমরা শুধু ঘুরতে গিয়েছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা হয়। আমি বেঁচে ফিরেছি, কিন্তু বন্ধুকে খুঁজে পাচ্ছি না—এ কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার নয়।’

পুলিশের বক্তব্য :
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃত কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের অধিকাংশই কিশোর এবং স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে তিনি জানান।

এ ঘটনায় নগরবাসীর মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কিশোর অপরাধের বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার এখনো আশায় বুক বেঁধে আছে—শাওন হয়তো ফিরে আসবে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায়।