পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বড় পানসিয়া গ্রামের কিশোর নবীন বিশ্বাস (১৫) দীর্ঘদিন ধরে পায়ের জটিল হাড়ের সংক্রমণ (Chronic Osteomyelitis) রোগে ভুগছে। একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসার পরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় পরিবারটি এখন মারাত্মক আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে।
অর্থাভাবে অসহায় হয়ে ছেলের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে নিজের কিডনি বিক্রি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন জুয়েল রানা। সন্তানের জীবন বাঁচাতে একজন বাবার এমন আকুতি সমাজের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক। মানবিক সহায়তা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যেন পরিবারটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারে— এমন প্রত্যাশাই সবার।
পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর এক সড়ক দুর্ঘটনায় নবীন গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় নবীনের দাদি জুলেখা খাতুন (৬০) নিহত হন এবং নবীনের বাম পায়ে মারাত্মক আঘাত লাগে। এরপর থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা চললেও পায়ের ক্ষত ও সংক্রমণ পুরোপুরি সেরে ওঠেনি।
পরিবার জানায়, নবীনকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ চিকিৎসা করানো হয়েছে। চিকিৎসকদের নথিতে দীর্ঘমেয়াদি হাড়ের সংক্রমণের (Chronic Osteomyelitis) উল্লেখ রয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসা এখনো চলমান।
নবীনের বাবা মো: জুয়েল রানা জানান, ছেলের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান ও সরকারের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
বর্তমানে নবীনের নিয়মিত চিকিৎসা, ড্রেসিং, ওষুধ ও প্রয়োজনে আরো অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা ব্যয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। তারা আশা করছেন, সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষ এগিয়ে এলে নবীনের চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে জুয়েল রানা রংপুর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে আবেদন করেছেন। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি ইতোমধ্যে দুইবার স্ট্রোক করেছেন। বর্তমানে তিনি আর্থিক ও মানসিক সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।


