মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাবি ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় বড় ভাইকে হত্যার উদ্দেশে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শনিবার (৩০ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন কাপড় ব্যবসায়ী সালাম মোল্লার স্ত্রী আমেনা বেগম (২৮) ও তার দেড় বছর বয়সী সন্তান আসওয়াদ। আহত হন সালাম মোল্লা (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান মোল্লার ছোট ছেলে মো: ইউসুফ মোল্লা (২৫) সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে তার বড় ভাবি আমেনা বেগমের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে আমেনা বেগম ও তার শিশু সন্তানকে কুপিয়ে জখম করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়।
ঘটনার কিছু সময় পর সালাম মোল্লা বাড়িতে ফিরলে অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লা তার ওপরও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লা পলাতক রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানায়, ইউসুফ মোল্লা ঢাকায় পড়ালেখা শেষ করে চাকরির পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। পরে তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। পরিবার থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি টাকা নিতেন। কিছুদিন আগে টাকা দেয়া বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাঁচামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, ইউসুফ মোল্লাকে মাতৃগর্ভে রেখেই তার পিতা সুলতান মোল্লার মৃত্যু হয়। এরপর তার পড়ালেখা ও জীবনের প্রায় সব দায়িত্বই বড় ভাই সালাম মোল্লা পালন করেন। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবং ভাইকে লেখাপড়া করাতে গিয়ে তিনি নিজেও অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন।
তিনি আরো জানান, চাকরির জন্য ইউসুফ মোল্লাকে সহায়তা করতে সালাম মোল্লা প্রায় ২২ লাখ টাকা দেন, কিন্তু চাকরি হয়নি এবং সেই টাকাও ফেরত দেয়া হয়নি। এ ঘটনার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



