বিএনপি মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তেল, গ্যাস আর জ্বালানির সমস্যা হয়েছে। আওয়ামী লীগ পনের বছরে একটাও তেল-গ্যাসের খনি আবিষ্কার করার চেষ্টা করেনি। অনুসন্ধান হয়নি। আমাদের একটা প্রতিষ্ঠান আছে বাপেক্স, যেই বাপেক্সকে দিয়ে আমরা এই গ্যাস বা তেল আহরণ করার চেষ্টা করি, খোঁজার চেষ্টা করি, কূপ খনন করে। সেটা তারা একদম পঙ্গু করে রেখে দিয়েছিল। সেটাকে আবার চালু করা হয়েছে। বিদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের এখানে গ্যাস খনন করবার জন্য দরপত্র করা হয়েছে। সেগুলো আসছে।’
রোববার ( ৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে লাভ বিডি শেয়ার নামের একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ২৫ জন সুবিধা বঞ্চিত ব্যক্তির মাঝে চায়ের দোকানের ঘর হস্তান্তরের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন তিনি।
বিরোধীদলের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আরে বাবা! হয়েছে তো মাত্র চার-পাঁচ মাস। এই চার-পাঁচ মাসে তো অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। বহু পরিবর্তন। একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি টেনে তোলা শুরু হয়েছে। একটা বিপর্যস্ত প্রশাসন, তাকে ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। চেষ্টা শুরু করেছেন। কাজটা তো এত সহজে, এত তাড়াতাড়ি হয় না। আলা উদ্দিনের চেরাগ তো নেই কারো হাতে।’
বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে, আমরা যদি সঠিক পথে যাই তাহলে গণতন্ত্রকে সঠিক পথে চলতে দিতে পারি। কিন্তু তারা (বিরোধী দল) গণতন্ত্রকে চলতেই দিতে দেয় না। তারা যে ভাষায় কথা বলে তা গণতন্ত্রের ভাষা না। আমরা (বিএনপি) নির্বাচনে জিতছি, মেজোরিটি পেয়েছি। আমরা তো পার্লামেন্ট চালাবো, দেশ চালাবো সেই ম্যান্ডেট তো আমরা পেয়েছি। আমাদেরকে দেশ চালাতে দেন। ব্যর্থ হলে তখন না আপনি বলবেন যে আপনি চালাতে পারেননি। তার আগেই রাস্তায় নেমে শুরু হয়ে গেছে সেই সমস্ত কথাবার্তা। আসুন আমরা গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলি। আমরা গণতন্ত্রকে তার পথে চলতে দেই। আমরা জনগণের নির্বাচিতদেরকে কাজ করতে দেই। তাহলে আমরা গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে পারবো।’
তেল গ্যাস সঙ্কট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই যে তেল আর গ্যাস এটা বিদেশ থেকে আনতে হয় জাহাজে করে এবং সেটাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। এই যুদ্ধ ইরাক, ইরান এবং আপনার যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধ, আমেরিকার যুদ্ধে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের প্রায় চার বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে বেশি পেমেন্ট করতে হয়েছে। এর মধ্যেও কিন্তু একদিনও আপনার তেল ছাড়া থাকেননি। গ্যাস ছাড়া থাকেননি। কমেছে। হয়তো যেটা আগে দশটা পাওয়া যেত এখন চারটা পাওয়া যায়, তিনটা পাওয়াও যাচ্ছে। এটা আমরা চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ অতি অল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্যাটার সমাধান হবে।’
আমদানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়েছে। যেটা আমদানি করতে হয় সে কারণে আমদানিপণ্যের মূল্য বাড়ে। সেকারণে বেড়েছে। এসব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সময়ে ৬০ লাখ মানুষের নামে মামলা হয়েছে, ২০ হাজার মানুষকে খুন এবং ১৭০০ মানুষকে গুম করা হয়েছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ গড়তে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।’
পরে চায়ের দোকানের ডকুমেন্ট উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন মির্জা ফকরুল।
লাভ বিডি শেয়ারেরর সভাপতি যুক্তরাষ্ট প্রবাসী জাহিদ খানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেনসি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, ডিসি মোগাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।



