চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদকের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সচেতন করতে এক বিশাল মাদকবিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে জীবননগর থানা-পুলিশের উদ্যোগে উপজেলার ধোপাখালী হাইস্কুল মাঠে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা জেলাকে মাদকমুক্ত করতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘মাদক সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ শুধু আইন প্রয়োগই নয়, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং বিপথগামীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও কাজ করে যাচ্ছে। যারা স্বেচ্ছায় মাদক ছেড়ে আত্মসমর্পণ করবে, তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’
পলাতক মাদক কারবারিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদক সংশ্লিষ্ট যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেন নাই, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই—আপনাদের জায়গা কিন্তু ওই ভুট্টাক্ষেত, জঙ্গল, কারাগার কিংবা এই জেলার বাইরে। এই জেলায় বসবাস করবেন আর মাদক কারবারি করবেন, এটা অসম্ভব।’
বর্তমানে মাদক কারবারি ও সেবীদের সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সবাই সোচ্চার থাকলে এই জেলা থেকে মাদক নির্মূল করা আর বেশি দূরে নয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ১৯ জন মাদকসেবী ও মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার প্রত্যয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন এবং ভবিষ্যতে মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহ্, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, মনোহরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর সর্দার, সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম ও মিনাজুল ইসলাম।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহাতাব মানিক ও সাধারণ সম্পাদক মো: রিপন হোসেন।
সমাবেশে বক্তারা মাদকের কুফল তুলে ধরে যুবসমাজকে রক্ষা করতে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জীবননগর থানার কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুধীজন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



