লালমনিরহাটে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

উদ্বোধনের দিনই সেতুর চারটি উইংয়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এতে সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
সেতু নির্মাণে অনিয়ম
সেতু নির্মাণে অনিয়ম |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) একটি সেতু নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের দিনই সেতুটিতে ফাটল দেখায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক তদন্তে ত্রুটি ধরা পড়ায় সেতুর চার কোণার চারটি উইং (প্রোটেকশন পিলার) ভেঙে সিডিউল অনুযায়ী নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি।

গত রোববার সকাল থেকে পুরোনো অবকাঠামো অপসারণের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডেরহাট এলাকায় ৭.৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর গত ২০ জুন বিকেলে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের দিনই সেতুর চারটি উইংয়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। এতে সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়ির বাজার পর্যন্ত ৯.৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার এবং একই সড়কে চারটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান ঠিকাদার গোলাম মাওলা। চুক্তি অনুযায়ী গত জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেতুগুলোর নির্মাণ শেষ হলেও সড়কের কার্পেটিং এখনো বাকি রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম রড, ইট ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।

বোর্ডেরহাট এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতু নির্মাণে এমন নিম্নমানের কাজ হয়েছে যে উদ্বোধনের দিনই ফাটল দেখা দেয়। শুধু এই সেতু নয়, পুরো প্রকল্পেই ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমরা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলাম, কিন্তু এলজিইডি আমাদের অভিযোগ উপেক্ষা করে উল্টো ঠিকাদারের পক্ষ নিয়েছে।’

একই গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সড়ক সংস্কারেও নিম্নমানের ইট ও বালু ব্যবহার করা হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই কেবল এলজিইডি নড়েচড়ে বসেছে। পুরো প্রকল্পের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার গোলাম মাওলা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যা বলার এলজিইডির প্রকৌশলী বলবেন।’

হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঠিকাদার এলজিইডিকে না জানিয়ে ঈদের ছুটির সময় সেতুর কাজ শেষ করেছেন।​সে সময় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।​ঠিকাদার নিজ উদ্যোগেই সেতুটি যাতায়াতের জন্য চালু করে দেন।​বর্তমানে এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিকাদার নতুন করে উইং নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন এবং তা কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।’

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম জানান, সেতুর মূল অবকাঠামো থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় যে মূল সেতুতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তবে পুরো সেতু ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।