ইউক্রেনের জেলে ৫ মাস ধরে সিলেটের যুবক, উদ্ধারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা

ট্রাভেল অ্যাজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে গত পাঁচ মাস ধরে একটি মাইগ্র্যান্ট কাস্টডি সেন্টারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিলেটের এক যুবক। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার।

এমজেএইচ জামিল, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ইউক্রেনের জেলে ৫ মাস ধরে সিলেটের যুবক মো: আলমগীর মিয়া, উদ্ধারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা
ইউক্রেনের জেলে ৫ মাস ধরে সিলেটের যুবক মো: আলমগীর মিয়া, উদ্ধারে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা |নয়া দিগন্ত

ট্রাভেল অ্যাজেন্সির প্রতারণার শিকার হয়ে ইউরোপের দেশ ইউক্রেনে গত পাঁচ মাস ধরে একটি মাইগ্র্যান্ট কাস্টডি সেন্টারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিলেটের এক যুবক। তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তার পরিবার।

ভুক্তভোগী যুবকের নাম মো: আলমগীর মিয়া। তিনি সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পূর্ব দাউদপুর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে। আলমগীরকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত ২৫ জুন তার বোন ফাতেমা বেগম সিলেট জেলা প্রশাসক এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের (ডিইএমও) কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৭ অক্টোবর আলমগীর ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। প্রথমে তিনি মলদোভায় যান এবং পরে বাসযোগে ইউক্রেনে প্রবেশ করেন।

ইউক্রেন ও মলদোভার ট্রানজিট ভিসা, বাস টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের ব্যবস্থা করেন সিলেট নগরীর সুরমা টাওয়ারে অবস্থিত 'এস আল করিম এয়ার ইন্টারন্যাশনাল'-এর স্বত্বাধিকারী মো. আজমল হোসেন।

এজন্য তাকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কাজের ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে লিখিত চুক্তিও হয়েছিল বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী কাজের ভিসা দেয়ার কথা থাকলেও আলমগীরকে তিন মাস মেয়াদি ডি-ক্যাটাগরির ভিসা দিয়ে ইউক্রেনে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। তাকে জানানো হয়েছিল, কাজের ভিসা না পাওয়া পর্যন্ত এভাবেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

কিন্তু এক মাস পর ওই প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে আর কাজে না আসতে বলা হয়। এরপর তিনি বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় বাংলাদেশে থাকা আজমল হোসেন তাকে অপেক্ষা করতে বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে অল্প সময়ের মধ্যেই তার কাজের ভিসার ব্যবস্থা করা হবে। সেই আশ্বাসে কয়েক মাস তিনি বাসায় অবস্থান করেন।

আবেদনে আরো বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় একটি বাজারে গেলে ইউক্রেনের পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী অবলাস্ট জেলার ভলিন মাইগ্র্যান্ট কাস্টডি সেন্টারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে আটক রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে তারা আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে আলমগীরকে উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউক্রেনের কাস্টডি সেন্টার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আলমগীর জানান, তিনি অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে আলু ও পাউরুটি খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। দ্রুত মুক্তি ও দেশে ফেরার জন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আবেদনকারী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘তার ভাইকে ইউক্রেন পাঠানোর বিষয়ে বর্তমানে আজমল হোসেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। ফোন করলেও বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’

এ বিষয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে মো: আজমল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।