জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি, হাঁটু পানি মাড়িয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘ সময় নোংরা পানিতে চলাচলের কারণে শিশুদের জ্বর, সর্দি ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
জলাবদ্ধতা
জলাবদ্ধতা |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের পাশেই অবস্থিত ইদ্রাকপুর ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও তা নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। টানা বর্ষণে বর্তমানে বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক ও আশপাশে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের সড়ক দিয়ে পঞ্চসার ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারাও নিয়মিত চলাচল করেন। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে না পারায় তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় নোংরা পানিতে চলাচলের কারণে শিশুদের জ্বর, সর্দি ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে একটি বড় পুকুর রয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে পুকুর উপচে পড়া পানি এবং আশপাশের এলাকার বৃষ্টির পানি বিদ্যালয়ের নিচু অংশে জমে থাকে। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয়সংলগ্ন নিচু সড়কটি সামান্য উঁচু করে সংস্কার করা হলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।

এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, বর্ষা এলেই বিদ্যালয়ের চারপাশে পানি জমে যায়। বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা থাকলেও সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। অথচ উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় বিদ্যালয়টির খুব কাছেই।

শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমেনা বেগম বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে হাঁটু পানি ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে এলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মৌসুমী মাহাবুব বলেন, ‘বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

দীর্ঘদিনের এ জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।