চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও বঞ্চিত জনপদ দ্বাদশপট্টি গ্রাম বর্তমানে ‘জাইল্যার মোড়’ নামে পরিচিত। এটি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এনায়েতপুর-পাঁচিল আঞ্চলিক সড়কের তিন রাস্তার মিলনস্থল। প্রকৃত নামটি বিকৃত হয়ে জাইল্যার মোড় হওয়ায় এলাকার মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ছিল।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে আড়কান্দি বাজারের দক্ষিণ থেকে দ্বাদশপট্টি মোড় হয়ে সোনাতলা গ্রামীণ টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার ধারে শতাধিক বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে ‘কৃষ্ণচূড়া মোড়’ নামে যাত্রা শুরু হয়েছে।
রোটারি ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার সভাপতি সাকিরা খাঁনের নিজস্ব অর্থায়নে শতাধিক কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয়দের আয়োজনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলিত হয়ে মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় বঞ্চিত এই জনপদকে উন্নয়নের মূলস্রোতে ফিরিয়ে নিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন। একই সাথে জাইল্যার মোড়কে ‘কৃষ্ণচূড়া মোড়’ নামকরণের প্রস্তাবনা উপস্থাপিত হয়।
পর্যটনকর্মী শাহিন সানীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হাসান, রোটারি ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার সভাপতি সাকিরা খাঁন, সাধারণ সম্পাদক অতিকা পারভীন মুনমুন, সদস্য কানিজ ফাতেমা বিথী, শাহজাদপুর উপজেলার সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস ছালাম, সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস, এনায়েতপুর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার নুরুল ইসলাম, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ আহম্মেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোনাউল্লাহ সরকার, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুক্তার হাসান, একুশে টিভির সংবাদ উপস্থাপক ওয়াহিদুজ্জামান, সাংবাদিক বাবু মির্জা, সোহেল রানা, ইয়াহিয়া খান, মোহাম্মদ সোহেল রানা ও ইছাহাক আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন এনায়েতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিক মোল্লা।
মতবিনিময়ে বক্তারা বলেন, সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন এলাকার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পাবে ‘কৃষ্ণচূড়া মোড়’। প্রায় চার যুগ আগে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে বসতি গড়া পিছিয়ে পড়া এই জনপদ ‘কৃষ্ণচূড়া মোড়’ নামকরণের মধ্য দিয়ে নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো। শতাধিক গাছ একসময় সবুজের গালিচায় রক্তরাঙা লাল ফুলে সৌরভ ছড়াবে।
বক্তারা আরো বলেন, সয়দাবাদ মহাসড়ক থেকে ‘কৃষ্ণচূড়া মোড়’ হয়ে পাবনা আঞ্চলিক সড়ক নির্মিত হলে অবহেলিত এই এলাকাটি স্থানীয়ভাবে পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় স্পটে পরিণত হবে। এ ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা একান্ত জরুরি। আশা করছি সংশ্লিষ্টরা এ অঞ্চলের প্রতি সুদৃষ্টি রাখবেন।



