কালবৈশাখীর কবলে লঞ্চ : চালক ও নৌ-পুলিশের তৎপরতায় ৭৫০ যাত্রী উদ্ধার

মুক্তারপুর ও কাঠপট্টির মাঝামাঝি ধলেশ্বরী নদীতে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী ‘ঈগল-৯’ লঞ্চটি ঝড়ের কবলে পড়ে চরে আটকা পড়ে। প্রায় ৫০০ যাত্রীবাহী লঞ্চটিতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
ঝড়ের কবলে যাত্রীবাহী লঞ্চ
ঝড়ের কবলে যাত্রীবাহী লঞ্চ |সংগৃহীত

কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীতে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চ চরে আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে চালকদের বিচক্ষণতা ও নৌ-পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৭৫০ যাত্রীকে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও মুক্তারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চাঁদপুরের ষাটনল ঘাট থেকে ছেড়ে আসা নারায়ণগঞ্জগামী এমভি ‘সমতা’ লঞ্চটি গজারিয়া অংশে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। প্রবল দুলুনিতে লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হলে চালক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে চর রমজান বেগ এলাকায় লঞ্চটি চরে তুলে নোঙর করেন। এতে আড়াই শতাধিক যাত্রী প্রাণে রক্ষা পান।

লঞ্চের যাত্রীরা জানান, মাঝনদীতে আকস্মিক ঝড়ে পড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে চালকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

লঞ্চটির মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত চরে ভেড়ানোর সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল।

অন্যদিকে, একই সময়ে মুক্তারপুর ও কাঠপট্টির মাঝামাঝি ধলেশ্বরী নদীতে ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী ‘ঈগল-৯’ লঞ্চটি ঝড়ের কবলে পড়ে চরে আটকা পড়ে। প্রায় ৫০০ যাত্রীবাহী লঞ্চটিতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নৌ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে সদরঘাট থেকে এমভি ‘জামাল’ লঞ্চ এনে আটকা পড়া যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।

মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: আব্দুল মাবুদ জানান, দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সব যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

দুই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আকস্মিক ঝড়ে নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চালকদের উপস্থিত বুদ্ধি ও নৌ পুলিশের সক্রিয়তায় বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে শতাধিক মানুষ।