রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ও সোনাপুর হাটে পেয়াজের আড়তদার (ব্যবসায়ীদের) আকস্মিক ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটের দিন (৫ মে) হাটে কোনো ব্যবসায়ী আড়ত না খোলায় কৃষকরা শত শত ভ্যানে তাদের উৎপাদিত পেয়াজ ও পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিওন (টাউন/তহশিল অফিসার) মহোদয় ব্যবসায়ীদের সাথে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে পেঁয়াজ বিক্রির সময় ‘ঢলন’ বা থলতা নামে মনপ্রতি অতিরিক্ত ২-৩ কেজি পেঁয়াজ কৃষকদের কাছ থেকে নেয়ার প্রথা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই প্রথা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
এরই প্রতিবাদে তারা মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দেয়। এতে সোনাপুর ও বহরপুর হাটে কোনো আড়ত খোলেনি।
ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। ভোর থেকে হাটে আসা কৃষকরা পেঁয়াজসহ অন্যান্য কাঁচামাল বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন।
অনেকেই পরিবহন খরচ বহন করে পণ্য নিয়ে এলেও বিক্রি করতে না পেরে সেগুলো আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
বহরপুর হাটে কৃষক ছেকেন মন্ডল জানান, ‘আমরা কষ্ট করে ফসল ফলাই, কিন্তু হাটে এনে যদি বিক্রি করতে না পারি তাহলে আমাদের বড় লোকসান হয়।’
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা সমাধানের ঘোষণা পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কৃষকদের ক্ষতি আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের এই দ্বন্দ্বের প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী মাহফুলউল্লা জানান, সোমবার উপজেলার সব হাটের সভাপতি সম্পাদক, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দেন পরামর্শেই থলন প্রথা নামে কৃষকদের জিম্মি করে ওজনে বেশি নেয়া সিস্টেম বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসন তা কার্যকর করবে।
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় পেঁয়াজ বাজারে চলমান সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া জরুরি।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন বাজারের বণিক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবেই এসব অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
কৃষকদের প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি—কোনো রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা চাপ যেন কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।
কৃষকরা কষ্ট করে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাবেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বার্থে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।



